তুরস্কের আকাশসীমায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির বিমান বাহিনীর একজন দক্ষ বৈমানিক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পশ্চিম তুরস্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় কর্তব্যরত পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি বালিকেসিরে অবস্থিত ৯ম মেইন জেট বেস কমান্ডের (9th Main Jet Base Command) অন্তর্ভুক্ত ছিল। বুধবার রাত প্রায় ১টার দিকে এটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন বা ‘ট্রেনিং সেশন’ শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’-এর সঙ্গে বিমানটির রেডিও যোগাযোগ (Radio Contact) বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান (Search and Rescue Operation) শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
পাইলটের মৃত্যু ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার দীর্ঘ তল্লাশি শেষে উদ্ধারকারী দলগুলো বালিকেসির এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাইলটের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় নিহত পাইলটকে মেজর ইব্রাহিম বোলাত হিসেবে শনাক্ত করেছে। দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত থাকাকালীন তাঁর এই অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ।
তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও রহস্যাবৃত। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘দুর্ঘটনা মূল্যায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বালিকেসির-এর গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগলু জানিয়েছেন, বিমানটি একটি নিয়মিত মিশনে ছিল। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন দেওয়ায় নিহত পাইলটকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইতিমধ্যেই বালিকেসির পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস থেকে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একটি বিশেষ ফরেনসিক দল (Forensic Team) এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিমানের ব্ল্যাক বক্স ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছেন। প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহের পর কারিগরি তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।
তুরস্কের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করতে নারাজ আঙ্কারা।