• খেলা
  • বার্সেলোনা নির্বাচনে ‘মেসি কার্ড’: কিংবদন্তির সম্মতি ছাড়াই প্রচারের হাতিয়ার হচ্ছেন এলএম১০?

বার্সেলোনা নির্বাচনে ‘মেসি কার্ড’: কিংবদন্তির সম্মতি ছাড়াই প্রচারের হাতিয়ার হচ্ছেন এলএম১০?

খেলা ১ মিনিট পড়া
বার্সেলোনা নির্বাচনে ‘মেসি কার্ড’: কিংবদন্তির সম্মতি ছাড়াই প্রচারের হাতিয়ার হচ্ছেন এলএম১০?

ফুটবল মাঠ থেকে বিদায় নিলেও কাম্প ন্যু-র রাজনীতিতে আজও অপরিহার্য লিওনেল মেসি; প্রাক-প্রার্থীদের সস্তা জনপ্রিয়তা ও প্রচার কৌশলে ক্ষুব্ধ মেসির ঘনিষ্ঠ মহল।

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বার্সেলোনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লিওনেল মেসি কেবল একটি নাম নন, বরং এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আবেগ ও শক্তির উৎস। আসন্ন ক্লাব সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে সেই আবেগকেই এখন পুঁজি করতে চাইছেন প্রাক-প্রার্থীরা। তবে এবারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ভিন্ন—নিজের সম্মতি ছাড়াই নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে মেসির নাম ও ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ (Brand Image)। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল জাদুকরের ঘনিষ্ঠ মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলেও, প্রার্থীরা যেন ‘মেসি কার্ড’ খেলতেই বেশি আগ্রহী।

অনড় মেসি ও প্রার্থীদের ‘প্রত্যাবর্তন’ স্লোগান নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই লিওনেল মেসি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বার্সেলোনার কোনো প্রার্থীর ‘ক্যাম্পেইন’ (Campaign)-এ তিনি নিজেকে জড়াতে চান না। এমনকি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেসি কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করবেন না। তা সত্ত্বেও প্রাক-প্রার্থীদের প্রচারপত্রে ‘মেসির প্রত্যাবর্তন’ ইস্যুটি বারবার সামনে আসছে, যা মূলত ভোটারদের মন জয়ের একটি সুকৌশলী ‘পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি’ (Political Strategy)।

মার্ক চিরিয়ার বিতর্কিত ব্যানার ও ‘লুকিং ফরোয়ার্ড’ বার্তা নির্বাচনী বিতর্কের প্রথম স্ফুলিঙ্গটি জ্বলে ওঠে প্রাক-প্রার্থী মার্ক চিরিয়ার একটি বিশাল ব্যানারকে ঘিরে। বার্সেলোনার একটি বহুতল ভবনে ঝোলানো সেই ব্যানারে লেখা ছিল—‘লুকিং ফরোয়ার্ড টু সিইং ইউ এগেইন’ (Looking forward to seeing you again)। সরাসরি নাম উল্লেখ না থাকলেও, বার্সার ফুটবল সংস্কৃতিতে এই বার্তাটি যে মেসির প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, তা বুঝতে ফুটবলবোদ্ধাদের বাকি নেই।

মেসির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই ব্যানারটি তাঁর সম্পূর্ণ অজান্তে এবং অনুমতি ছাড়াই টানানো হয়েছে। এমনকি বিষয়টিতে মেসি নিজেও বিস্মিত ও কিছুটা বিরক্ত। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য তাঁর ‘আইকনিক’ ইমেজ ব্যবহার করাকে অনৈতিক মনে করছে তাঁর পরিবার।

ভিক্টর ফন্ট ও যোগাযোগের ব্যর্থ চেষ্টা তালিকায় পিছিয়ে নেই আরেক প্রভাবশালী প্রাক-প্রার্থী ভিক্টর ফন্ট। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মেসির ঘনিষ্ঠ মহলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফন্টের পক্ষ থেকে গ্যাব্রিয়েল মাসফুরল এই ‘লবিং’ (Lobbying) চালানোর চেষ্টা করলেও মেসির তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফন্ট অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ফায়দা নয়, বরং ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা। তবে নির্বাচনের আগে এমন যোগাযোগ যে ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি মাধ্যম, তা বলাই বাহুল্য।

লাপোর্তার ‘ট্রিবিউট’ চাল ও সুকৌশলী অবস্থান বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। তিনি সম্প্রতি মেসির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং মেসির ক্লাব ছাড়ার সময়কার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। লাপোর্তা এখন মেসির জন্য একটি বড়সড় ‘ট্রিবিউট’ (Tribute) বা সম্মাননা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কৌশলী লাপোর্তা জানিয়েছেন, সম্মাননা অনুষ্ঠানের সময় ও তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব তিনি মেসির হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাপোর্তা নিজেকে মেসির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তুলে ধরে মূলত পুরনো সমালোচনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নৈতিকতা বনাম সস্তা জনপ্রিয়তা: কী ভাবছেন সমর্থকরা? বার্সেলোনার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ লিওনেল মেসি। তাঁর প্রতি কাতালান সমর্থকদের ভালোবাসা প্রশ্নাতীত। কিন্তু প্রাক-প্রার্থীরা যেভাবে তাঁকে অনুমতি ছাড়া নির্বাচনী ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে ক্লাব সমর্থকদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। সম্মতি ছাড়া একজনের ‘ইমেজ রাইটস’ (Image Rights) বা ব্যক্তিগত গরিমা ব্যবহার করা কতটা সাংবাদিকতা ও পেশাদারিত্বের আওতায় পড়ে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আপাতত মেসি তাঁর নীরবতা বজায় রাখছেন এবং নিরপেক্ষ থাকার অবস্থানেই অনড় আছেন। তবে বার্সেলোনার এই ‘পাওয়ার পলিটিক্স’ (Power Politics) যেভাবে আবর্তিত হচ্ছে, তাতে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, মেসিকে ঘিরে বিতর্কের ডালপালা ততই বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tags: sports news messi victor font football ethics barcelona election laporta brand image club politics campaign strategy catalan club