যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার ইট উত্তোলন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত সংবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ‘রাতদিন নিউজ’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সুবলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজসেবক জাকির হোসেন। তিনি এই সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবতা ও অভিযোগ খণ্ডন
প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছিল যে, সুবলকাঠি গ্রামের সরকারি সলিং রাস্তার ইট উত্তোলনের ঘটনায় জাকির হোসেনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর জবাবে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের উক্ত রাস্তার সংস্কার কাজ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের (Contractor) সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং যাবতীয় সরকারি বিধিবিধান (Government Rules) মেনেই সম্পাদিত হচ্ছে।
জাকির হোসেন বলেন, “রাস্তার ইট উত্তোলন বা প্রকল্পের কোনো প্রক্রিয়ার সাথেই আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ আমাকে জড়িয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুকৌশলে এই কাল্পনিক গল্প সাজিয়েছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
সাংবাদিকতার নীতি লঙ্ঘন ও ‘ওয়ান সাইডেড’ সংবাদের অভিযোগ
সংবাদটিতে জাকির হোসেনকে ‘ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তথ্যটিকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালটি সংবাদ প্রকাশের আগে তাঁর সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করার প্রয়োজন বোধ করেনি কিংবা তাঁর কোনো বক্তব্য গ্রহণ করেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, “এটি একটি চিরাচরিত ‘ওয়ান সাইডেড স্টোরি’ (One-sided Story), যা সাংবাদিকতার নূন্যতম নৈতিকতা ও ‘জার্নালিস্টিক এথিকস’ (Journalistic Ethics) পরিপন্থী। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তারা নিজেদের মতো মনগড়া তথ্য পরিবেশন করেছে।”
নির্বাচনী অগ্রযাত্রা রুখতে পরিকল্পিত চক্রান্ত
জাকির হোসেনের দাবি অনুযায়ী, এই অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তিনি আগামী নির্বাচনে ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রার্থী (Candidate) হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও ‘ইমেজ’ (Market Value) নষ্ট করাই এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি মনে করেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের আহ্বান
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাকির হোসেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একটি ‘নিউট্রাল ইনভেস্টিগেশন’ (Neutral Investigation) বা নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি যাতে এ ধরণের হীন চরিত্র হননের চেষ্টা ভবিষ্যতে কেউ না করতে পারে। আমি তথ্য বিকৃতকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বিবৃতির শেষে তিনি সুবলকাঠি ও ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো তথ্য বিশ্বাসের আগে তার সত্যতা যাচাই করা এবং ‘ফ্যাক্ট চেক’ (Fact Check) করা একজন সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।