"দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অনুদান, ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বিতরণ"
আলীকদম জোনের মানবিক উদ্যোগে অসচ্ছলদের মাঝে প্রায় তিন লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে । বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক’র নির্দেশনায় এই অনুদান বিতরণ করা হয়।
সর্বমোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৪ টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়, যা দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তায় ধারাবাহিক ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় অসচ্ছল, অসুস্থ ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের মাঝে অনুদান প্রদান করেছে আলীকদম জোন।
জোন সূত্র জানায়, আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক’র নির্দেশনায় জোনের আওতাধীন বিভিন্ন ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডাররা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিবর্গ, পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সর্বমোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৪ টাকা অনুদান বিতরণ করেন।
এ অনুদানের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে অনেক সময় সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, সেখানে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা সবসময়ই পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে পাহাড়ি-বাঙালি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের মতে, আলীকদম জোনের এ উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।