• দেশজুড়ে
  • সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত শেষে ঈদে যাত্রীসেবায় যুক্ত হচ্ছে ১০৬ কোচ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত শেষে ঈদে যাত্রীসেবায় যুক্ত হচ্ছে ১০৬ কোচ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত শেষে ঈদে যাত্রীসেবায় যুক্ত হচ্ছে ১০৬ কোচ

তৈয়ব আলী সরকার ,নীলফামারী।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অতিরিক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ট্রেনের ১০৬ কোচ মেরামত করা হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। মাত্র ২৪ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতাসহ নানা সমস্যা নিয়েই কোচগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০টি ব্রডগেজ (বড়) ও ৪৬টি মিটারগেজ (ছোট লাইন) রয়েছে। এতে করে ঈদুল ফিতরের ঘরমুখো মানুষ (যাত্রীরা) স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। কারখানার ২৯টি উপ-কারখানায় এসব কোচ মেরামতে মাত্র ৩৯ দিন কর্মদিবস হাতে পেয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মেরামত করা কোচগুলো আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শেষদিন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি সংখ্যক কোচ মেরামত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা করেছেন। এছাড়াও, গত বছর ঈদুল ফিতরে ১৬৭টি কোচ মেরামত করা হয়েছিলো বলে জানান, কারখানার বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক। সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতিবছর দুই ঈদের জন্য অধিকতর যাত্রীসেবার কথা ভেবে কোচ মেরামত করে থাকেন। জনবল সংকট থাকা সত্বেও রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে ঈদের জন্য ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে চলতি রমজানে ৬১টি কোচ কম মেরামত করা হচ্ছে। কারখানার ভিতরে, বাহিরে দুই হাজার ৮৫৯ জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮৬০ জন। জনবল সংকটের মধ্যেও নানা ধরনের যত্রাংশ তৈরীসহ প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। যদিও এ কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকট রয়েছে, তবুও তাদের কাজে আন্তরিকতা অভাব নাই। অবশ্য শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভার টাইমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা কাজ চলছে কারখানার ২৯টি উপ-কারখানায় (বিভাগে)। শ্রমিকরা রঙ করা, বডি প্রস্তত, আবার কেউবা সিট মেরামত ও বিন্যাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে এই বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে তাদের। ইতোমধ্যে প্রস্তত হওয়া ৫০টি ব্রডগেজ ও ১৪টি মিটারগেজ বগি চলে গেছে পাকশী ও রেলওয়ে বিভাগের কাছে। ক্যারেজ শপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সুবাহান বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অচল গাড়িকে সচল করে থাকি। আমাদের শ্রমের বিনিময়ে মানুষ নিরাপদে ঈদ করতে পারবে, এটাই আমাদের সফলতা। একই কারখানার পেইন্ট শপের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রেল যেহেতেু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, আমরা সেবার জন্য বেশি করে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। যাতে যাত্রীদের কোনো সমস্যা না হয়। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের পাহাড়তলীতে দ্ধিতীয় রেলওয়ে কারখানাতেও ঈদযাত্রায় যাত্রী পরিবহনেরর জন্য ১০০টি মিটার গেজ লাইনের কোচ মেরামতের কাজ চলছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, ঈদের সময় যাতে যাত্রীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেজন্য আমাদের শ্রমিকরা শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। রেলওয়ে হচ্ছে নিরাপদ যানবাহন। প্রতিবছর যাত্রীসেবা দিতে আমরা বিপুল পরিমাণ কোচ মেরামত করে থাকি। এসব কোচ পশ্চিমাঞ্চল এর বিভিন্ন রুটে স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়। এছাড়াও আন্তনগর কোচগুলোতেও কোচ সংযোজন করা হয়। ফলে ঈদের ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে পরিবারের কাছে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন। তিনি জানান, কারখানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, খুব শিগগিরই জনবল সংকটের সমাধান হবে।