ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী মেহরান শহরে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্তত ৪৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরাক সীমান্তবর্তী ওই রেজিমেন্টের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, হামলায় সদর দপ্তরের ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের সংযোগ প্রাথমিক তদন্ত শেষে ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই রক্তক্ষয়ী হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি এজেন্টদের হাত রয়েছে। মূলত ইরানকে অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে সীমান্তবর্তী এই সদর দপ্তরটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হওয়ার সংবাদ এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব তেহরানের নার্নাকে অবস্থিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলায় আহমেদিনেজাদ ও তার বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর খবরটি এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বা কোনো স্বাধীন উৎস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি অন্যদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪৮ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। যদিও তিনি এই নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, এই তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও থাকতে পারে।
এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম অস্থিরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি আসলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত।