রাজধানীর পল্লবীতে স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী দেশে ফিরলেও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল থেকে ফেরার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার কোনো হদিস মিলছে না। এদিকে, তাকে আইনের আওতায় আনতে রাজধানীসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
বিমানবন্দরে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও আত্মগোপন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ মার্চ) বিকেলে নেপাল থেকে একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জাহের আলভী। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ফরমালিটিজ শেষ করে একজন মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় তিনি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। অথচ নেপালে থাকাকালীন আলভী বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, দেশে ফিরেই তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
বাস্তবে দেখা গেছে ঠিক উল্টো চিত্র। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি তার ফেসবুক প্রোফাইলসহ অন্যান্য Social Media অ্যাকাউন্টগুলো ডিঅ্যাক্টিভেট বা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এই ‘ডিজিটাল ডিসকানেকশন’ আলভীর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত করেছে।
পুলিশি তৎপরতা ও আইনি প্রক্রিয়া জাহের আলভীর এই রহস্যময় আচরণকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘ইচ্ছাকৃত পলায়ন’ হিসেবেই দেখছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আলভীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তার সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইকরার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া পরকীয়ায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিনেত্রী তিথি এবং আলভীর মাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
১৫ বছরের দাম্পত্য ও করুণ পরিণতি ২০১০ সালে প্রেম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের এই সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায় পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে। ইকরার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, স্বামীর একাধিক Extra-marital Affair এবং দীর্ঘদিনের Mental Torture সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার কিছু ব্যক্তিগত চ্যাট ও কথোপকথন Viral হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ফাঁস হওয়া ওই তথ্যে স্বামীর প্রতি ইকরার চরম অভিমান এবং যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, আলভীর গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা প্রকারান্তরে নিজের অপরাধকেই বড় করে তুলছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, পালিয়ে না থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করাই হবে অভিনেতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।