• রাজনীতি
  • ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা: ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা: ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা: ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

‘খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’— বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত সমাবেশে বিশ্বনেতাদের প্রতি যুদ্ধের উন্মাদনা বন্ধের জোরালো আহ্বান।

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা এবার আছড়ে পড়ল ঢাকার রাজপথে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নিয়ে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও সার্বভৌমত্বের অবমাননা বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বলেন, যখন বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানে হামলা চালানো কেবল কাপুরুষোচিত নয়, বরং এটি স্পষ্টত International Law বা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে তার নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যা করা বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের নামান্তর। জাতিসংঘ সনদ (UN Charter) এবং আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্বের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই যে রক্তক্ষয়ী উন্মাদনা শুরু করেছে, তা পৃথিবীকে এক অনিশ্চিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

খামেনির মৃত্যু ও মধ্যপ্রাচ্যে রণক্ষেত্র উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরানও বসে থাকেনি; তারা পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে Strategic Retaliation বা কৌশলগত পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। এমনকি ইসরাইল লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান। ঢাকার সমাবেশে বক্তারা এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয় বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

শান্তি ও স্থিতিশীলতার দাবিতে গণমিছিল সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “বিশ্বের কোনো সংঘাতই সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। মার্কিন-ইসরাইলি এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।” সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড় ও দৈনিক বাংলা মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি হাউজ বিল্ডিং চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

ভৌগোলিক রাজনীতি ও জনমত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মতো একজন প্রভাবশালী নেতার হত্যাকাণ্ডে মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঢাকার এই বিক্ষোভ সেই বহিঃপ্রকাশেরই একটি অংশ। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই আগ্রাসন বন্ধ না হয়, তবে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসবে। তারা এই সংঘাত বন্ধে ওআইসি (OIC) এবং জাতিসংঘকে আরও জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Tags: middle east international law dhaka protest ayatollah khamenei bangladesh protest war news islamic andolan us israel iran attack baitul mukarram