জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, শিক্ষিত এবং যাদের একটি স্বচ্ছ অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। এই মানদণ্ডে খুলনায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সুজানা জলি।
রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগ খুলনার খালিশপুরের মেয়ে সুজানা জলি বর্তমানে নগরীর গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা। নব্বইয়ের দশকে খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলের সদস্য হওয়ার পর বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে ও তার পরিবারকে নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সুজানা জলির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় তাকে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগর খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি। এছাড়া তিনি খুলনা সম্মিলিত নারী অধিকার ফোরাম ও ইয়ং উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষিত নারী নেত্রী হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকায় তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সুজানা জলির বক্তব্য মনোনয়ন প্রসঙ্গে সুজানা জলি বলেন, "ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের অনুসারী আমি। এক যুগেরও বেশি সময় রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খুলনার মানুষের সেবা করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায় এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমি কাজ করে যাবো।"
সংসদীয় সমীকরণ নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জোটগতভাবে বিএনপি ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ১২টি এবং অন্যান্যরা বাকি আসনগুলো পেতে পারেন। আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই খুলনার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে সুজানা জলিকে নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।