• রাজনীতি
  • উত্তরাধিকার থেকে জননেতা: প্রথমবার এমপি হয়েই বাজিমাত, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ইশরাকের লক্ষ্য এখন ‘নগর ভবন’

উত্তরাধিকার থেকে জননেতা: প্রথমবার এমপি হয়েই বাজিমাত, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ইশরাকের লক্ষ্য এখন ‘নগর ভবন’

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
উত্তরাধিকার থেকে জননেতা: প্রথমবার এমপি হয়েই বাজিমাত, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ইশরাকের লক্ষ্য এখন ‘নগর ভবন’

খোকা-পুত্রের হাত ধরে ঢাকার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ; রাজপথের লড়াই পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া এই তরুণ তুর্কির আগামীর গন্তব্য কোথায়?

বাংলাদেশের রাজনীতির ক্যানভাসে গত কয়েক বছরে যেসব তরুণ মুখ নিজেদের স্বতন্ত্র মহিমায় ভাস্বর করেছেন, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। কেবল বংশগত ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষা, রাজপথের আপসহীন সংগ্রাম এবং দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তার সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন এক ‘লড়াকু’ জননেতা হিসেবে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের এক বিশাল মাইলফলক। তবে সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রীর তকমা ছাপিয়ে তার দৃষ্টির সীমানায় এখনও অমীমাংসিত সেই ‘নগর ভবন’।

রাজনৈতিক লিগ্যাসি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ইশরাক হোসেনের বেড়ে ওঠা রাজনীতির অন্দরমহলে। তিনি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র। ২০১৯ সালে বাবার প্রয়াণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তবে ইশরাক কেবল পারিবারিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ঢাকার স্বনামধন্য ‘Scholastica’ স্কুল থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল শেষ করে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে ‘University of Hertfordshire’ থেকে ‘Mechanical Engineering’-এ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে বিদেশের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা তার চিন্তাভাবনায় এনেছে আধুনিকতা ও ‘Global Perspective’, যা তাকে দেশের প্রথাগত রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা করেছে।

২০২০ সালের নির্বাচন: লড়াইয়ের অগ্নিপরীক্ষা ইশরাকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ‘Turning Point’ ছিল ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) নির্বাচন। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও মাঠ না ছাড়ার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা বিএনপির ‘Grassroots’ কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। যদিও তৎকালীন ফল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল, কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ‘Electoral Tribunal’ তাকেই প্রকৃত বিজয়ী ঘোষণা করে। সেই আইনি বিজয় তাকে নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়।

প্রথমবার এমপি ও প্রতিমন্ত্রীর নতুন চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়লাভ করা ছিল ইশরাকের জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেন, পুরান ঢাকার অলিগলি আর সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা সুদৃঢ়। এই বিজয়ের পুরস্কার হিসেবে তিনি পান সরকারের ‘Ministry of Liberation War Affairs’ বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের ‘Portfolio’ পাওয়া তার জন্য একইসঙ্গে গর্বের এবং বড় এক চ্যালেঞ্জের। বর্তমানে তিনি ‘Veteran Welfare’ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিতকরণে নতুন নতুন ‘Policy’ প্রণয়নে কাজ করছেন।

মেয়র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা: নগরপিতার স্বপ্ন বনাম মন্ত্রিত্ব প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও ইশরাক হোসেনের হৃদয়ে এখনও তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার কারিগর হওয়ার স্বপ্ন অম্লান। সম্প্রতি তিনি পুনরায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও স্থানীয় সরকারের এই শীর্ষ পদে ফেরার আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করলেও, তার সমর্থকদের কাছে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। তার লক্ষ্য এখন ‘National Level Policy Making’-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা মহানগরীর জন্য একটি টেকসই ‘Urban Planning’ বাস্তবায়ন করা। বাবার অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করে ঢাকাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল ‘Cabinet Mission’।

আগামীর পথে ইশরাক: আধুনিক নেতৃত্বের প্রোটোটাইপ ইশরাক হোসেনকে বলা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবমুখী নেতৃত্বের এক অনন্য ‘Prototype’। উচ্চশিক্ষিত এবং প্রযুক্তিজ্ঞানে দক্ষ এই নেতা প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষ্যের বাইরে গিয়ে আধুনিক উন্নয়ন ও ‘Good Governance’ বা সুশাসনের কথা বলেন। ‘Social Media’-তে তার বিশাল ফলোয়ার এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাকে সমসাময়িক অন্য নেতাদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। রাজপথের জেল-জুলুম আর পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও অবিচল থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি ‘এসি রুমের নেতা’ নন, বরং রাজপথের লড়াকু সৈনিক।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার পরিচালনার এই দ্বিমুখী ভারসাম্য বজায় রাখা ইশরাকের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে তারুণ্যের শক্তি এবং ‘Public Administration’-এ আধুনিক ছোঁয়া দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির এক অপরিহার্য নেতায় পরিণত করতে পারে। ঢাকা থেকে জাতীয় রাজনীতি—ইশরাক হোসেনের এই অগ্রযাত্রা কেবল একটি পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন ধারার সূচনা।

Tags: bnp leader dhaka politics liberation war urban planning ishraque hossain sadek hossain khoka state minister dscc mayor young politician electoral victory