মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে কুয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘বেশ কয়েকটি’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো শক্তিশালী Missile এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনা ও ক্রুদের উদ্ধার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানগুলোর ক্রু ও পাইলটরা অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কতটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি শত্রুদেশের কোনো আক্রমণ, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি মন্ত্রণালয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
আকাশপথে সংঘাতের নতুন মোড়: ইরানের আক্রমণ এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। গত তিন দিন ধরে ইরাক, সিরিয়া এবং কুয়েতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত মার্কিন Base লক্ষ্য করে তেহরান তাদের অত্যাধুনিক Drone এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। এই ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই কুয়েতের আকাশে মার্কিন বিমানের এই পতন আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এফ-১৫ বিধ্বস্ত ও ইসরাইলি দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কুয়েতের আকাশে ইরানের হামলার শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি এফ-১৫ (F-15 Fighter Jet) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে অন্তত একজন পাইলট প্যারাশুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কিংবা কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি। তবে কুয়েতের আকাশে যুদ্ধবিমানের এই ধ্বংসলীলা যে এক বড় ধরনের Air Combat বা আকাশযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
মার্কিন দূতাবাস এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সতর্কতা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের চারপাশের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত থমথমে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। সোমবার সকালেই দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন (Air Raid Siren) বাজার পর এই ধোঁয়ার কুণ্ডলী আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে সাধারণ মানুষকে দূতাবাস এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাস ভবনে সরাসরি কোনো আক্রমণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ ওয়াশিংটন।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনীতি এই সংঘাতের রেশ কেবল কুয়েত বা ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে সৌদির আরামকো (Aramco) তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার জেরে সেখানে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একদিকে মার্কিন সামরিক শক্তি এবং অন্যদিকে ইরানের ছায়াযুদ্ধ ও ড্রোন প্রযুক্তি—এই দুইয়ের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ড। কুয়েতের মতো শান্ত দেশটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধের পরিধি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক হতে চলেছে। মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের Tactical Support এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (Air Defense System) জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।