মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ হামলার শুরু থেকেই মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়েই ইরানের একটি স্কুলে বিমান হামলা (Air Strike) চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে এই হামলার ব্যাপ্তি ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশটির অন্তত ১৩১টি কাউন্টি (County) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ ও মিসাইল হামলায় বিপুল পরিমাণ অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
মানবিক বিপর্যয় ও উদ্ধার তৎপরতা এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইরানে এক চরম মানবিক বিপর্যয় (Humanitarian Crisis) তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের ত্রাণ কার্যক্রম ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধকবলিত এলাকায় তাদের ‘মানবিক মিশন’ কোনো বিরতি ছাড়াই কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে দেশজুড়ে ১ লক্ষেরও বেশি প্রশিক্ষিত কর্মী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে (Full Alert) রয়েছেন।
বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও মনোসামাজিক সহায়তা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইরান এক নজিরবিহীন স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকের একটি বিশাল বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তারা কেবল খাদ্য বা প্রাথমিক চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ‘মনোসামাজিক সহায়তা’ (Psychosocial Support) প্রদানের জন্যও কাজ করছে। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে মানসিক ট্রমা মুক্ত করতে এই বিশাল বাহিনী ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার নতুন মাত্রা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ আক্রমণ কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় কোনো বৈশ্বিক মধ্যস্থতা ছাড়া এই সংঘাত থামানো সম্ভব নয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসা আক্রমণাত্মক বার্তার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো উদ্ধার কাজের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমকে (Relief Operation) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।