বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনালি ট্রফিটা আরও একবার উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নে বিভোর সাম্বার দেশ ব্রাজিল। সেই ‘মিশন হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে দলের অঘোষিত নেতা কে হবেন—তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে জল্পনার শেষ নেই। ভক্তদের হৃদয়ে একজনের নামই বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে; তিনি নেইমার জুনিয়র। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ এই মঞ্চে ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারের উপস্থিতি এখনো চূড়ান্ত নয়। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ফুটবলীয় দর্শনে নেইমারের জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে যখন সংশয় দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই সতীর্থের হয়ে জোরালো দাবি তুললেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগো গোয়েস।
‘নেইমার ছাড়া ফুটবলটা পানসে’: রদ্রিগোর আবেগ ও যুক্তি ব্রাজিল দলে নেইমারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই রদ্রিগোর মনে। সম্প্রতি ‘কেজ টিভি’-র এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপের আসর ব্রাজিলের জন্য অর্থহীন। তার মতে, “বিশ্বকাপে নেইমার? আমার মনে হয় এটা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশই থাকা উচিত নয়। আমরা জানি সে নিজেকে পুরোপুরি ফিট করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। তাকে বাদ দিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল কল্পনা করা যায় না; তাকে ছাড়া মাঠের মজাটাই থাকবে না। আমাদের তাকে ভীষণ দরকার।”
রদ্রিগোর এই মন্তব্য কেবল আবেগতাড়িত নয়, বরং কৌশলী। আধুনিক ফুটবলে একজন দক্ষ Playmaker এবং অভিজ্ঞ ফুটবলারের অভাব যে কোনো দলকে ভোগাতে পারে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো High-intensity টুর্নামেন্টে। ২০২৪ সালেও রদ্রিগো একই সুরে বলেছিলেন যে, শিরোপা জিততে হলে ব্রাজিলের স্কোয়াডে একজন ফিট নেইমার অপরিহার্য।
ইনজুরি কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও ফিটনেস চ্যালেঞ্জ নেইমারের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারের গ্রাফটা বেশ নাটকীয়। গত মৌসুমে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে তিনি ক্লাবটিকে অবনমন থেকে রক্ষা করতে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেন। তবে বিপত্তি ঘটে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর, যখন তাকে হাঁটুর ‘মিডিয়াল মেনিস্কাস’ ইনজুরির কারণে Surgery করাতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরে নেইমার আবারও তার জাদুকরী ফর্মের জানান দিয়েছেন। সবশেষ ম্যাচেও তিনি জোড়া গোল (Brace) করে প্রমাণ করেছেন যে, তার গোল করার ক্ষুধা এবং স্কিল এখনো অটুট।
আনচেলত্তির কৌশল বনাম ইএসপিএন-এর রিপোর্ট ব্রাজিলের বর্তমান হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার Tactical Planning এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের জন্য পরিচিত। ইএসপিএন ব্রাজিলের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ইতিমধ্যে ১৮ জনের নাম চূড়ান্ত করেছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। বিস্ময়করভাবে সেই তালিকায় এখনো নেইমারের নাম ওঠেনি। নেইমারের ফিটনেস এবং মেজাজ—এই দুই বিষয়ই আনচেলত্তিকে ভাবিয়ে তুলছে। যদিও রদ্রিগোর মতো সিনিয়র প্লেয়ারদের চাপ এবং নেইমারের বর্তমান পারফরম্যান্স আনচেলত্তিকে তার সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পথচলা ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। আগামী ১৩ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সেলেসাওদের বিশ্বজয়ের অভিযান। মরুভূমির দেশ মরক্কোর বিপক্ষে এই কঠিন লড়াইয়ে নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ সেনাপতির অভাব ব্রাজিল কতটা অনুভব করবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, নেইমারের উপস্থিতি কেবল টেকনিক্যাল শক্তিই বাড়াবে না, বরং দলের তরুণ তুর্কিদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক আভিজাত্য বা Confidence জুগিয়ে দেবে।