নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি ব্যাংকের শাখাসহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে শহরের অত্যন্ত জনাকীর্ণ শহীদ ডা. জিকরুল হক রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত বিস্তার প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে একটি লেপ-তোষকের দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা প্রথম দেখা যায়। তুলা এবং কাপড়ের মতো দাহ্য পদার্থ (Flammable materials) মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। স্থানীয়রা নেভানোর চেষ্টা করলেও তুলা থেকে উৎপন্ন আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফেরদৌস কটন হাউজ, আকবর কটন শপ, রাজা বেডিং হাউজ এবং একরামুল হক কটন শপ নামের চারটি বড় টিনশেড আধা-পাকা দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ব্যাংক ও বহুতল ভবনে আগুনের গ্রাস আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তা পার্শ্ববর্তী একটি ৮ তলা ভবনের (Multi-storied building) ওপরের তলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত 'ঢাকা ব্যাংক' এবং তৃতীয় তলায় অবস্থিত 'ঢাকা মার্কেন্টাইল অ্যান্ড কো-অপারেটিভ ব্যাংক'-এর শাখায় আগুন লেগে যায়। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর পৌঁছানোর আগেই ব্যাংক দুটির ভেতরের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং সরঞ্জামাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে নিচ তলায় থাকা 'বেস্ট বাই' শোরুমটি (Showroom) দমকল বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
উদ্ধার কাজে পানির তীব্র সংকট খবর পেয়ে প্রথমে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের (Fire Service Unit) দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকায় পর্যাপ্ত পানির অভাব থাকায় উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, রংপুরের তারাগঞ্জ এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আরও ৩টিসহ মোট ৮টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে যোগ দেয়। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং সাধারণ মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই সময় পুরো সড়কজুড়ে উৎসুক লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) ফারহা ফাতিহা তাকলিমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, "আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট নিরলস কাজ করেছে। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত (Investigation) করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
রংপুর রেঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, "পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত শেষে জানানো সম্ভব হবে।"
শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা (Fire Safety) ও জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভ না থাকা নিয়ে আবারও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।