গুনদত্ত গ্রাম থেকে ফুলবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের অধিকাংশই বর্তমানে পলি ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে।
এই খালে এখন ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার ঘন স্তরের কারণে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ। এর ফলে পার্শ্ববর্তী ছামনা বিলের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে গুনদত্ত পর্যন্ত খালের আংশিক খনন করা হলেও অবশিষ্ট অংশ ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ কমেনি, বরং পানি চলাচলের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একসময় ছামনা বিল থেকে কয়েক হাজার মণ ধান উৎপাদিত হতো, যা ছিল এলাকার হাজার হাজার পরিবারের প্রধান জীবিকা। তবে বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে বিলজুড়ে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় আমন ও বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুকনো মৌসুমে জমি সময়মতো চাষের উপযোগী না হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি বিশাল এলাকার জমি অনাবাদি পড়ে আছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম জানান, “খাল ভরাট থাকায় আমাদের জমি পানিতে ডুবি থাকে। ধান চাষ করতি পারি না, খরচ আগের থাইকে বাইরে গেছে। চাষে তো ক্ষতি হচ্ছেই, আমগোর পরিবার চালাতিও সমস্যা হচ্ছে। ” স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ায় কৃষকদের পাশাপাশি দিনমজুর ও খেতমজুররাও কর্মসংস্থানে সংকটে ভুগছেন। তাছাড়া খালে জমাটবদ্ধ পানা ও আবর্জনার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে পরিবেশগত ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
দিগড় ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম বলেন, এই খালে পানি জমে থাকার কারণে কৃষিতে তো সমস্যা হচ্ছেই, সাথে আমাদের সাধারণ মানুষেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। মশা-মাছি, দুর্গন্ধ সব মিলায়া অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।
উপজেলার হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বে স্থানীয়রা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন করা না হলে এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ও পরিবেশ বড় ধরনের স্থায়ী বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। স্থানীয়রা আশাবাদী, খনন কাজ শুরু হলে একদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য সম্পদের বিকাশের মাধ্যমে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।