মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধমেঘের সরাসরি প্রভাব পড়ল বেসামরিক বিমান চলাচলে। ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় যখন গোটা বিশ্ব তটস্থ, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা গুপ্তা। আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর গত ২ মার্চ নিরাপদে দিল্লি পৌঁছান তিনি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
আকস্মিক অচলাবস্থা ও ঘনীভূত উৎকণ্ঠা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই আবুধাবি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন এশা গুপ্তা। প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া শেষে বিমানের জন্য অপেক্ষা করার সময়ই ছন্দপতন ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে হুট করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় আবুধাবির Aviation কার্যক্রম। আকাশপথে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা Commercial Flight চলাচলের অনুমতি মিলছিল না।
এশা জানান, দুপুরের পর থেকে পুরো বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়ে এক অজানা আতঙ্ক। চারিদিকে কেবল বিভ্রান্তি আর মানুষের আর্তনাদ। ঠিক কী ঘটছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছিল না বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও। পরে জানা যায়, Geo-political উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার সতর্কতায় আকাশপথ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
অচেনা মানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক পরিবেশ
বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার সময়টি ছিল চরম অনিশ্চয়তার। অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, সেই কঠিন মুহূর্তে যাত্রীরা একে অপরের জন্য পরম আত্মীয় হয়ে উঠেছিলেন। একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা—সব মিলিয়ে এক মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেখানে।
এশা লিখেছেন, “সেই সময়টা ছিল কেবল ভয় আর উৎকণ্ঠার। তবে দুর্যোগের দিনে মানুষই যে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, তা আবারও প্রমাণিত হলো।” বিমানবন্দরের Ground Staff এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতারও প্রশংসা করেছেন তিনি। আটকে পড়া যাত্রীদের খাবারের জন্য নগদ অর্থ প্রদান এবং যাদের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, তাদের নিকটবর্তী বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হোটেল কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও সেবা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
অবশেষে দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন
দুই দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর চরম অনিশ্চয়তা শেষে গত ২ মার্চ আবুধাবি থেকে দিল্লির উদ্দেশে প্রথম যে Commercial Flight-টি উড্ডয়ন করে, তাতে ওঠার সুযোগ পান এশা। দেশে ফিরে আসার পর যেন প্রাণ ফিরে পান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে এশা জানান, নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছেন।
অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থা কীভাবে ভূ-রাজনৈতিক সংকটে থমকে যেতে পারে।