চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৯ মার্চ। একই দিনে বক্স অফিসে (Box Office) মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ‘ধুরন্ধর ২’ এবং প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার যশের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক’। তবে আকস্মিক এক ঘোষণায় ভক্তদের হতাশ করলেন অভিনেতা যশ। সোমবার (৪ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অভিনেতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে বড় পর্দায় আসছে না ‘টক্সিক’। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতাকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বড় বাজেটের ঝুঁকি
সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘টক্সিক’ কেবল একটি আঞ্চলিক চলচ্চিত্র নয়, বরং একে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় পরিসরে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। যশ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং তার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার (Global Uncertainty) কারণে ছবিটির মুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যশের ভাষ্যমতে, “এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য অত্যন্ত যত্ন সহকারে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে দর্শকদের কাছে সিনেমাটি সঠিকভাবে পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিশাল বাজেটের এই প্যান-ইন্ডিয়া (Pan-India) প্রজেক্টের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ডিস্ট্রিবিউশন একটি বড় ফ্যাক্টর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাভাবিক সিনেমা প্রদর্শন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থা।
উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত
সিনেমাটির পুরো টিম ১৯ মার্চের মুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল। পোস্ট-প্রোডাকশন এবং বিপণন কৌশলেও (Marketing Strategy) আনা হয়েছিল নতুনত্ব। তবে বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক বক্স অফিস কালেকশন নিশ্চিত করতে এই কৌশলগত পিছুটান বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। যশের এই সিদ্ধান্তকে পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবসম্মত বাজার পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
নতুন তারিখ ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা
যশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ‘টক্সিক’ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ৮ জুন। সিনেমাটি কেবল ভারতের আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে নয়, বরং ইংরেজি ভাষাতেও ডাবিং করে একযোগে বিশ্ববাজারে মুক্তি দেওয়ার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে। এই দীর্ঘ তিন মাসের অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে সিনেমার ভিএফএক্স (VFX) এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলোকে আরও নিখুঁত করার সুযোগ পাবেন নির্মাতারা।
দক্ষিণী সিনেমার এই মহাতারকার ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। জুনে নতুন করে বক্স অফিস মাতাতে যশ কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।