• জীবনযাপন
  • তৃষ্ণা মেটাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে ইফতারে আনারসের জুড়ি নেই: জানুন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

তৃষ্ণা মেটাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে ইফতারে আনারসের জুড়ি নেই: জানুন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
তৃষ্ণা মেটাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে ইফতারে আনারসের জুড়ি নেই: জানুন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

সারাদিন রোজার পর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ এবং দ্রুত এনার্জি জোগাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে এই রসালো ফল; জেনে নিন ইফতারে আনারস রাখার বৈজ্ঞানিক কারণ।

পবিত্র রমজানে দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার পর শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনি কমে যায় আর্দ্রতার পরিমাণ। ইফতারে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের ভিড়ে আমরা অনেক সময় পুষ্টিকর ফলকে অবহেলা করি। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ইফতারে আনারসের মতো রসালো ফল রাখা কেবল রুচি বাড়ানোই নয়, বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পুনরায় সচল করতে সহায়তা করে। আনারসে থাকা বিশেষ কিছু ভিটামিন ও এনজাইম ইফতারের পরবর্তী শারীরিক জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

তাত্ক্ষণিক হাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স

আনারসে প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পানি থাকে। দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় শরীরে যে পানিশূন্যতা বা Dehydration তৈরি হয়, তা দূর করতে আনারস অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে। এটি শরীরকে শীতল করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে দ্রুত ‘ইনস্ট্যান্ট হাইড্রেশন’ (Instant Hydration) নিশ্চিত করে। ফলে ক্লান্তি দূর হয়ে শরীরে সজীবতা ফিরে আসে।

হজমের অব্যর্থ দাওয়াই ও ‘ব্রোমেলিন’ এনজাইম

ইফতারে আমরা সাধারণত ছোলা, পেঁয়াজু বা মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ ভারী খাবার খেয়ে থাকি। আনারসে থাকা ‘ব্রোমেলিন’ (Bromelain) নামক একটি শক্তিশালী এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে এবং হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। এটি পাকস্থলীর প্রদাহ কমায় এবং ইফতার পরবর্তী গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপা হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। যারা নিয়মিত হজমজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ইফতারে আনারস একটি আদর্শ পথ্য।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ক্লান্তি নিরসন

আনারস উচ্চমাত্রার ‘ভিটামিন সি’ (Vitamin C) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের (Antioxidant) একটি চমৎকার উৎস। রোজা রাখার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা Immune System যেন দুর্বল না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখে এই ফলটি। পাশাপাশি এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং পেশির ক্লান্তি দূর করে শরীরে এনার্জি ফিরিয়ে দেয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিজম বৃদ্ধি

অন্যান্য মিষ্টি ফলের তুলনায় আনারসে ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ডায়েটারি ফাইবার (Dietary Fiber) পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা ইফতারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ফলে যারা রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আনারস হতে পারে সেরা পছন্দ। এছাড়া এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা Metabolism উন্নত করতেও কার্যকর।

কিভাবে খাবেন এবং কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা

ইফতারে আনারসের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে এটি তাজা অবস্থায় খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তুত প্রণালী: ফলের প্লেটে কয়েক টুকরো তাজা আনারস রাখতে পারেন। স্বাদ বদলাতে আনারস, পুদিনা পাতা ও সামান্য লেবুর রস দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন ‘ডিটক্স ড্রিংক’ বা স্মুদি। তবে অতিরিক্ত লবণ বা চাটমসলা ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এটি অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।

সতর্কতা: যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা রক্তে শর্করার মাত্রা বুঝে পরিমিত পরিমাণে আনারস খাবেন। এছাড়া খালি পেটে অতিরিক্ত আনারস খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে মুখে জ্বালাপোড়া বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য হালকা খাবারের সাথে এটি গ্রহণ করা নিরাপদ।

সুস্থভাবে রমজান অতিবাহিত করতে ইফতারের তালিকায় এমন প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল রাখা অত্যন্ত জরুরি। আনারসের পরিমিত ব্যবহার আপনার রমজানের প্রতিটি দিনকে আরও সতেজ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলবে।

Tags: vitamin c nutrition guide digestion tips hydration healthy fruits pineapple benefits ramadan diet iftar health bromelain enzyme weight control