• জীবনযাপন
  • সাহরিতে যা খাবেন আর যা বর্জন করবেন: দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকার গাইডলাইন

সাহরিতে যা খাবেন আর যা বর্জন করবেন: দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকার গাইডলাইন

সুস্থ ও সতেজ রোজা পালনের জন্য সাহরিতে সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া জরুরি।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
সাহরিতে যা খাবেন আর যা বর্জন করবেন: দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকার গাইডলাইন

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরকে কর্মক্ষম ও হাইড্রেটেড রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সাহরিতে সঠিক খাদ্য নির্বাচন না করলে সারাদিন ক্লান্তি, তৃষ্ণা ও হজমের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। রোজাদারদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেটে ক্ষুধা না লাগার কৌশল নিয়ে সাহরির একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের সময়। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার কারণে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। তাই সাহরিতে এমন খাবার বেছে নেওয়া জরুরি যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তি জোগায়।

সাহরিতে যে খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখবেন

১. জটিল শর্করা: সাহরিতে সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ওটস বা মিষ্টি আলু খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই খাবারগুলোতে প্রচুর আঁশ থাকে, যা ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা মিশিয়ে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়।

২. উচ্চ মানের প্রোটিন: ডিম, মুরগির মাংস বা চর্বিহীন গরুর মাংস প্রোটিনের চমৎকার উৎস। প্রোটিন হজম হতে সময় বেশি লাগে, ফলে এটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা অনুভব করতে দেয় না এবং পেশীর ক্ষয় রোধ করে।

৩. লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খাবার: যে সব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না। ছোলা, বাদাম, চেরি বা এপ্রিকট জাতীয় ফল সাহরির জন্য আদর্শ।

৪. দই ও প্রোবায়োটিক: সাহরির শেষ দিকে কয়েক চামচ দই খেলে সারাদিন বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম হয়। এটি শরীরকে শীতল রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধেও সাহায্য করে।

৫. ডাবের পানি: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরের খনিজ ঘাটতি পূরণ করে।

যে খাবারগুলো সাহরিতে এড়িয়ে চলবেন

১. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার: সাহরিতে ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেলে সারাদিন প্রচণ্ড তৃষ্ণা পায় এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটে। এগুলো অ্যাসিডিটির প্রধান কারণ হতে পারে।

২. অতিরিক্ত মসলা ও ঝাল: মসলাদার খাবার পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। রোজার সময় যেহেতু ওষুধ খাওয়া সম্ভব নয়, তাই সাহরিতে সাধারণ ও কম মসলার খাবার খাওয়াই শ্রেয়।

৩. চিনি ও উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার: সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সিরিয়াল বা মিষ্টি জাতীয় খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও কিছুক্ষণ পরেই ক্লান্তি ভাব নিয়ে আসে।

৪. একবারে অতিরিক্ত পানি পান: সাহরির সময় একেবারে অনেক পানি পান না করে ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। একবারে বেশি পানি পান করলে তা দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং তৃষ্ণা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখে না।

Tags: lifestyle news nutrition guide healthy fasting ramadan diet sehri-tips