• জীবনযাপন
  • ইফতারে এক ফালি তরমুজ: শুধু তৃষ্ণা মেটানোই নয়, শরীরের সজীবতায় এটি এক ‘সুপারফুড’

ইফতারে এক ফালি তরমুজ: শুধু তৃষ্ণা মেটানোই নয়, শরীরের সজীবতায় এটি এক ‘সুপারফুড’

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
ইফতারে এক ফালি তরমুজ: শুধু তৃষ্ণা মেটানোই নয়, শরীরের সজীবতায় এটি এক ‘সুপারফুড’

রোজায় পানিশূন্যতা রোধ থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো—কেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইফতারে তরমুজ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন? জানুন বিস্তারিত।

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় উপবাসের পর ইফতারে আমরা এমন কিছু খুঁজি যা একই সাথে প্রশান্তি দেবে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করবে। প্রচণ্ড গরমে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে পানিশূন্যতা (Dehydration) ও অবসাদ আসাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে ইফতারের দস্তরখানে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং এটি শরীরের হারানো শক্তি ফিরিয়ে আনতে এক ‘ন্যাচারাল বুস্টার’ হিসেবে কাজ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে ফলমূল, বিশেষ করে তরমুজ রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

নিমিষেই পানিশূন্যতা দূর ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স তরমুজের প্রায় ৯০ থেকে ৯২ শতাংশই পানি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তরমুজ তা দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম। এতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট (Electrolytes) শরীরের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান ও ক্লান্তি নিরসন সারাদিন গ্লুকোজের অভাবে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে তরমুজের জুড়ি নেই। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ (Fructose), যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক করে তাৎক্ষণিক শক্তি (Instant Energy) জোগায়। কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকসের তুলনায় তরমুজ অনেক বেশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর।

হজম প্রক্রিয়া সচল ও কিডনির সুরক্ষা ইফতারে সাধারণত আমরা ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খেয়ে থাকি, যা অনেক সময় হজমে সমস্যা তৈরি করে। তরমুজ অত্যন্ত হালকা এবং সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পাকস্থলীকে পরবর্তী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে। এছাড়া তরমুজে থাকা পটাশিয়াম ও প্রচুর পানি শরীরের টক্সিন (Toxin) বের করে দিতে সাহায্য করে, যা কিডনি বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখে।

লাইকোপেনের গুণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস তরমুজের লাল অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন (Lycopene) নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কেবল ক্যান্সার প্রতিরোধেই সাহায্য করে না, বরং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট বা হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়া নিয়মিত তরমুজ খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সজীবতা রোজার সময় পানিশূন্যতার কারণে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তরমুজে থাকা ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে ইফতারে নিয়মিত তরমুজ খেলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল থাকে।

সতর্কতা: কখন ও কতটা খাবেন? উপকারিতা থাকলেও তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি:

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত তরমুজ খেলে অনেক সময় পেট ফাঁপা (Bloating) বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: তরমুজের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) কিছুটা বেশি হওয়ায় ডায়াবেটিস আক্রান্তদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।

খাদ্য নিরাপত্তা: বাজার থেকে কেনা কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় রাখবেন না। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে টাটকা ফল খান অথবা ফ্রিজে সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করুন।

ইফতারের মেন্যুতে কৃত্রিম শরবতের বদলে এক বাটি তরমুজ হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ ও সুস্বাদু উপায়। প্রকৃতি প্রদত্ত এই উপহারটি গ্রহণ করে এবারের রমজান কাটুক সুস্থ ও সতেজ।

Tags: superfood heart health nutrition facts healthy fasting ramadan health lycopene iftar tips watermelon benefits hydration food detox tips