ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। রোববার (০১ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
আশঙ্কায় সরবরাহ ব্যবস্থা ও হরমুজ প্রণালী বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ সামরিক হামলা হলেও সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার জানান, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা আসার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক এবং তেল কোম্পানি ওই পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস নরওয়ে-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টার্ড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জে লিওনের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থায় দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তেলের দাম দ্রুত ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি বাজার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দাম ৯২ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি অন্যদিকে, তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট 'ওপেক প্লাস' আগামী এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিমাণ বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় মাত্র ০.২ শতাংশের কম, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।