আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘কঠোর মূল্য’ দিতে হবে।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, রোববার দেশজুড়ে ১০টি আধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এতে এ পর্যন্ত ভূপাতিত ড্রোনের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এর বেশিরভাগই হারমিস ড্রোন, যা ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর।
ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে বলছে, এটি সর্বাত্মক প্রতিরোধের মুহূর্ত। তারা বলছে, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানার ইচ্ছা তাদের রয়েছে।
একইসঙ্গে তারা দাবি করছে, এখনো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা— যার মধ্যে কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে— ব্যবহার করা হয়নি। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘কঠোর মূল্য’ দিতে হবে।
তারা আরও বলছেন, এই সংঘাত আগের কোনো সংঘর্ষের মতো নয়। ইরানি নেতারা এটিকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন— যেখানে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা প্রদর্শন এবং তাদের কথিত মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা না করা পর্যন্ত কোনো পিছু হটা, আপস বা আত্মসমর্পণ থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ অন্তত ৩০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেল আবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ২০১ জন নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন সাত শতাধিক। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১২১ জন আহত হয়েছেন। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন এবং ইরানে ২ জন নিহত হয়েছেন। আমিরাতে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।