২০২৬ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক 'ইসলামাবাদ সংলাপ' কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনার পরও সমঝোতা না হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সংলাপে ব্যর্থতার প্রধান কারণসমূহ পরমাণু ইস্যুতে কঠোর অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ উপকরণ দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন আইনি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা: যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার এবং সেখানে ইরানের প্রভাব খর্ব করার শর্ত দিয়েছিল। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চাইছে।
ইসরায়েলি নাশকতা: পাকিস্তানি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, বৈঠক চলাকালীন বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে। একে সুপরিকল্পিত 'নাশকতা' হিসেবে দেখছে তেহরান।
আস্থার সংকট: দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে 'অযৌক্তিক দাবি'র অভিযোগ তুলেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একে ইরানের জন্য 'দুঃসংবাদ' বললেও, তেহরান বলছে ওয়াশিংটনের 'অতিরিক্ত লোভ'ই এই ব্যর্থতার মূল কারণ।