দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতুর বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। সবশেষ ৫ দফা মূল্যে পরিবর্তনের মধ্যে তিনবারই বেড়েছে রুপার দাম। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে টানা দুই দফায় ভরিতে মোট ৫২৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ গয়না ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুই দফায় বড় পরিবর্তন: কী বলছে বাজুস? শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির ভাষ্যমতে, স্থানীয় বাজারে ‘Pure Silver’ বা খাঁটি রুপার সরবরাহ সংকট এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয় (Price Adjustment) করা হয়েছে। নতুন এই দাম শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আজকের দ্বিতীয় দফার ১৭৫ টাকা বৃদ্ধিসহ মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে রুপার দাম বাড়ল মোট ৫২৫ টাকা।
ক্যারেটভেদে রুপার নতুন দামের তালিকা বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট রুপার জন্য গুনতে হবে ৭ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া অন্যান্য মানের রুপার দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে:
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৫৩২ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা।
ভ্যাট ও মজুরির হিসাব: ক্রেতাদের বাড়তি চাপ কেবল নির্ধারিত মূল্যেই রুপা কেনা সম্ভব নয়। বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রুপার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি গয়না তৈরির ক্ষেত্রে বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও শৈল্পিক মানের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গয়না কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণের বাজারেও বড় উত্থান রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের দামেও বড় ধরনের ‘Market Volatility’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুসের সর্বশেষ তথ্যমতে, ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকায় পৌঁছেছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া স্বর্ণের এই দাম দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। স্বর্ণের ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ধাতু দুটির দামে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ বারই দাম বেড়েছে। গত ২০২৫ সালেও রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম চলতি বছর ৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ২১ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ‘Market Value’ স্থিতিশীল রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে মূল্যবান ধাতু মজুত করায় চাহিদাও বাড়ছে, যা দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।