• ব্যবসায়
  • আকাশচুম্বী স্বর্ণের বাজার: আবারও বাড়ল দাম, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভরি?

আকাশচুম্বী স্বর্ণের বাজার: আবারও বাড়ল দাম, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভরি?

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
আকাশচুম্বী স্বর্ণের বাজার: আবারও বাড়ল দাম, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভরি?

২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছাড়াল ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা; বৈশ্বিক অস্থিরতা ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের উচ্চমূল্যে নতুন রেকর্ড গড়ল মূল্যবান এই ধাতু।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যেন থামছেই না। সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন এই দর অনুযায়ী আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতুর সবশেষ মূল্যতালিকা। এতে গয়না কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের নতুন দর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ‘Tejabi Gold’ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী:

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

ভ্যাট ও মজুরির অতিরিক্ত চাপ বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ‘Government-regulated VAT’ বা ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ ‘Making Charge’ বা মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে জুয়েলারি গহনার ডিজাইন ও শৈল্পিক মানভেদে মজুরির হারে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। ফলে একজন ক্রেতাকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি গহনা কিনতে হলে বাজুস নির্ধারিত দামের চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে।

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ‘Market Volatility’ বা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই দাম বেড়েছিল। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের বাজারে ঘন ঘন এই দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

রুপার বাজারে স্বস্তি স্বর্ণের দামে দফায় দফায় রেকর্ড ভাঙা-গড়া চললেও দেশের বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে রুপার দাম। বাজুসের সবশেষ তালিকা অনুযায়ী, রুপার দর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্লোবাল ইকোনমিতে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই স্থানীয় বাজারে এর দামকে প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে। সাধারণ ভোক্তাদের জন্য স্বর্ণ এখন আক্ষরিক অর্থেই এক বিলাসী স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Tags: bangladesh economy gold price silver price market value jewelry market precious metal gold investment bajus rate gold hike jewelry wage