• জাতীয়
  • ‘দেড় দশক ধরে জনপ্রশাসনে চলেছে দলীয়করণের মহোৎসব’: লক্ষ্মীপুরে বড় সংস্কারের বার্তা দিলেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

‘দেড় দশক ধরে জনপ্রশাসনে চলেছে দলীয়করণের মহোৎসব’: লক্ষ্মীপুরে বড় সংস্কারের বার্তা দিলেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘দেড় দশক ধরে জনপ্রশাসনে চলেছে দলীয়করণের মহোৎসব’: লক্ষ্মীপুরে বড় সংস্কারের বার্তা দিলেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন নবনিযুক্ত উপদেষ্টা; লক্ষ্মীপুর সফরে মেলালেন আগামীর প্রশাসনিক রোডম্যাপ।

গত ১৫ বছরে দেশের জনপ্রশাসন ব্যবস্থাকে সুপরিকল্পিতভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

সিইও-র ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী: এক নতুন প্রশাসনিক দর্শন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতার প্রশংসা করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ঘোষিত ‘I Have a Plan’ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও (CEO)-র মতো প্রতিটি বিষয় সূক্ষ্মভাবে মনিটর (Monitor) করছেন এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নিচ্ছেন। প্রশাসনিক কাজের এই ধরনটি কেবল দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ব্যতিক্রমী ও গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তন আসবে।

দলীয়করণের জঞ্জাল সরিয়ে ‘মেধাভিত্তিক’ প্রশাসন বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে সিভিল সার্ভিসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব হারিয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এক ধরনের ধস নেমেছে। তবে আমরা দমে যাওয়ার পাত্র নই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা একটি বৈষম্যহীন এবং মেধাভিত্তিক (Merit-based) প্রশাসন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের ‘প্রশাসক’ নয়, বরং ‘সেবক’ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হবে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক (Accountable) এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।

নির্বাচন-পরবর্তী দায়বদ্ধতা ও ঐক্যের ডাক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “বিএনপি ও ধানের শীষের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত ‘বাংলাদেশ’। নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি আর বর্তমান অবস্থা এক নয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই বিশাল বিজয়ের দায়িত্ব ও দায়ভার আমাদের সম্মিলিতভাবে বহন করতে হবে।”

বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও অভিবাদন এর আগে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল উপদেষ্টাকে ‘Guard of Honor’ প্রদান করে। এরপর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনের প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের তাঁবেদারি করবে না, বরং মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তার এই সফরের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক সংস্কারের এক নতুন বার্তা পৌঁছাল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags: tarique rahman bangladesh politics public administration civil service administrative reform accountability government policy lakshmipur news meritocracy ismail zabiullah