২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা আসর বসার বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিরা যখন নিজেদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ফরাসি শিবিরে বাজছে বিপদের ঘণ্টা। ফ্রান্সের ‘Poster Boy’ এবং বর্তমান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চোট নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ও সমর্থকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—বিশ্বকাপের আগে কি শতভাগ ফিট হতে পারবেন এই মহাতারকা?
এক পায়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এমবাপ্পে! ইউরোপীয় গণমাধ্যম ও রিয়াল মাদ্রিদ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই বাঁ হাঁটুর ‘Ligament Inflammation’ বা প্রদাহজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমবাপ্পে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, গত ছয় সপ্তাহ ধরে তিনি কার্যত এক পায়েই মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। গতি এবং তীক্ষ্ণ ‘Body Swerve’-এর ওপর ভিত্তি করে যাদের খেলার ধরন, তাদের জন্য হাঁটুর এমন চোট ক্যারিয়ারের জন্য বড় ঝুঁকি। স্প্যানিশ ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র—মাঠে এমবাপ্পের সেই চিরচেনা ক্ষিপ্রতা এখন অনেকটাই ম্লান।
অস্ত্রোপচার এড়াতে ‘Fast-Track’ চিকিৎসা কর্মসূচি ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘L'Équipe’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমবাপ্পের চোট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এখনই ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে নারাজ এই ফরোয়ার্ড। তাই তাকে একটি নিবিড় ‘Recovery Program’ বা দ্রুতগতির চিকিৎসা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লা লিগার (La Liga) আসন্ন অন্তত তিনটি ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে মেডিকেল বোর্ড তার হাঁটুর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
অধিনায়কহীন ফ্রান্সের শঙ্কা ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে এখন আর কেবল একজন ফরোয়ার্ড নন, আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের অবসরের পর তিনি ‘Les Bleus’দের সুযোগ্য কাণ্ডারি। দলের নেতৃত্ব এবং গোল করার মূল কারিগর—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ফরাসিদের মধ্যমণি। চার মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে এমবাপ্পের এই অনিশ্চয়তা কোচ দিদিয়ের দেশমের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নরওয়ে ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দল। এছাড়া প্লে-অফ থেকে আসতে পারে বলিভিয়া বা ইরাকের মতো লড়াকু কোনো দেশ। এমবাপ্পে বিহীন ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যে অনেকটাই ধারহীন হয়ে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
রিয়াল মাদ্রিদের নীরবতা ও অনিশ্চয়তা এমবাপ্পের চোটের প্রকৃতি নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এখনো কোনো ‘Official Statement’ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহের পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অনুশীলন সেশনে তাকে দেখা যায়নি। এমনকি সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দলের বাইরে ছিলেন এই ফরাসি তারকা। ক্লাবের এই অতি-সতর্কতা প্রমাণ করে যে, এমবাপ্পের চোট সাধারণ কোনো ‘Knock’ নয়।
আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমবাপ্পের হাঁটু যদি এই বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাড়া দেয়, তবেই হয়তো ২০২৬ বিশ্বকাপে তাকে পূর্ণ শক্তিতে দেখা যাবে। অন্যথায়, বিশ্বমঞ্চে অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সকে তাদের সেরা অস্ত্র ছাড়াই লড়াইয়ে নামার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।