টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরই লড়াকু দল হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ড। মাঠের ভেতরে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, কিউইদের হার না মানা মানসিকতা অনেক পরাশক্তিকেই বিপাকে ফেলেছে। চলমান আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সুপার এইটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একসময় চরম বিপর্যয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কিউইরা। আর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে দলের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা 'Adaptability'-কে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার।
বিপর্যয় থেকে রূপকথার প্রত্যাবর্তন
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে এক পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের স্কোরকার্ড ছিল ৮৪ রানে ৬ উইকেট। মাত্র ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার আশঙ্কায় যখন সমর্থকেরা উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে কিউইদের লোয়ার অর্ডার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রানের লড়াকু পুঁজি পায় তারা। পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬১ রানের বড় জয় ছিনিয়ে নিয়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয় কিউইরা। এই জয়টি কেবল দুই পয়েন্টই দেয়নি, বরং দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দর্শন
গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ ভারতের হাই-স্কোরিং ভেন্যুগুলোতে খেলেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সুপার এইটের লড়াকু ম্যাচটি ছিল শ্রীলঙ্কার মন্থর পিচে। ভারতের রানপ্রসূ ‘Surface’ থেকে এসে শ্রীলঙ্কার ভিন্ন কন্ডিশনে শুরুতে খাপ খাইয়ে নিতে কিউইরা কিছুটা সমস্যায় পড়লেও দ্রুতই তারা তাদের ‘Game Plan’ পরিবর্তন করে নেয়।
আগামীকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামার আগে কোচ রব ওয়াল্টার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ব্ল্যাক ক্যাপসরা সব সময় দারুণ ‘Problem Solver’ বা সমস্যা সমাধানকারী দল। তাঁরা খুব দ্রুত প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা এবং কন্ডিশন বুঝে নিয়ে কার্যকর পদ্ধতি বের করতে পারে। আমরা এটাকে কেবল আমাদের সামর্থ্য নয়, বরং একটি বড় গর্বের বিষয় মনে করি।”
রাচিন রবীন্দ্রর অলরাউন্ড ম্যাজিক ও সতর্কতা
নিউজিল্যান্ডের এই জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তরুণ তুর্কি রাচিন রবীন্দ্র। ব্যাট হাতে ২২ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলার পর বল হাতে মাত্র ২৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ‘Player of the Match’ হন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই অলরাউন্ডার (All-rounder) সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন। রবীন্দ্রর মতে, “কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে সত্যি, তবে ইংল্যান্ডকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের বোলিং লাইনে যেমন ধারাবাহিকতা রয়েছে, তেমনি ব্যাটিংয়েও বেশ কিছু ‘World Class’ ক্রিকেটার রয়েছে।”
সেমিফাইনালের পথে শেষ বাধা ইংল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের জন্য সমীকরণটি এখন বেশ স্পষ্ট। শুক্রবারের ‘High Voltage’ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই কোনো গাণিতিক মারপ্যাঁচ ছাড়াই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে কিউইরা। তবে ইংলিশদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বোলারদের আবারও বড় পরীক্ষা দিতে হবে। কোচ রব ওয়াল্টারের রণকৌশল এবং দলের খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব (Professionalism) শেষ পর্যন্ত তাদের শেষ চারে পৌঁছে দিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।