চলমান টুর্নামেন্টের সুপার এইট (Super Eight) পর্বের লড়াই এখন চূড়ান্ত উত্তজনায় রূপ নিয়েছে। গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার। এই গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে প্রথম দল হিসেবে ইতোমধ্যেই সেমিফাইনাল (Semi-final) নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ফলে গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারের টিকিটের লড়াই এখন মূলত নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে। তবে পাকিস্তানের জন্য এই যাত্রাপথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ এবং জটিল গাণিতিক সমীকরণে ঘেরা।
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড: ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ
আগামী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন টিকে থাকা বা ধূলিসাৎ হওয়া নির্ভর করছে এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর। নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডকে হারাতে পারে, তবে কোনো যদি-কিন্তুর অবকাশ ছাড়াই কিউইরা পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা ‘গ্রুপ টপার’ (Group Topper) হিসেবে গ্রুপ-১-এর দ্বিতীয় দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লড়বে। এমনটা হলে টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনালই অনুষ্ঠিত হবে ভারতের মাটিতে।
পাকিস্তানের টিকে থাকার লাইফলাইন: ইংল্যান্ডের জয়
পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠার প্রথম শর্ত হলো ইংল্যান্ডকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী হতে হবে। ইংল্যান্ড যদি কিউইদের হারিয়ে দেয়, তবে তারা ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকবে এবং নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট থাকবে ৩। তখন পাকিস্তানের সামনে সুযোগ আসবে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিউজিল্যান্ডের সমকক্ষ হওয়ার। কিন্তু সেখানেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে নেট রান রেট (Net Run Rate)।
নেট রান রেটের কঠিন চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেট পাকিস্তানের তুলনায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানকে কেবল জিতলেই হবে না, বরং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যবধান হতে হবে বিশাল।
ধরা যাক, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ১৮০ রান সংগ্রহ করল এবং কিউইদের ৩০ রানে হারাল। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (একই রান তাড়া করার ক্ষেত্রে) অন্তত ৪০ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। অর্থাৎ, দুই ম্যাচের সম্মিলিত জয়ের ব্যবধান হতে হবে প্রায় ৭০ রান, যাতে পাকিস্তান এনআরআর-এ (NRR) নিউজিল্যান্ডকে টপকে যেতে পারে।
আবার যদি নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ১৫০ রান করে এবং ইংল্যান্ড ১৭ ওভারের মধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা (Target) ছুঁয়ে ফেলে, তবে পাকিস্তানকে তাদের ম্যাচে সমপরিমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে হবে মাত্র ১৪.৪ ওভারের মধ্যে। এই পাহাড়সম গাণিতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন পাকিস্তান শিবিরের প্রধান চিন্তার বিষয়।
ভেন্যু নির্ধারণের নাটকীয়তা: কলকাতা বনাম কলম্বো
গ্রুপ পর্বের এই শেষ ম্যাচগুলো শুধু সেমিফাইনালিস্টই নির্ধারণ করবে না, বরং ঠিক করবে হাই-ভোল্টেজ (High Voltage) সেমিফাইনাল কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, যদি নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফাই করে, তবে প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। আর যদি পাকিস্তান সব সমীকরণ মিলিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারে, তবে প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে।
সব মিলিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন শুক্রবারের ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের দিকে। পাকিস্তানের অগণিত ভক্ত এখন প্রার্থনায় মগ্ন, যাতে ইংলিশরা কিউইদের রুখে দেয় এবং বাবর আজমরা শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেন।