২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সুপার এইট’ (Super Eight) পর্বে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী জয় তুলে নিয়েছে ভারত। চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে ফিরলেন রোহিত-সূর্যকুমাররা। এই হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিশ্চিত হলো জিম্বাবুয়ের, অন্যদিকে ভারতের জন্য পরবর্তী ম্যাচটি এখন ‘ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে’ (Virtual Quarter-final) পরিণত হয়েছে।
ব্যাট হাতে ভারতের তাণ্ডব: বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটাররা জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রানের এক বিশাল স্কোর গড়ে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ইনিংসের শুরু থেকেই উচ্চ ‘স্ট্রাইক রেট’ (Strike Rate) বজায় রেখে খেলেছেন অভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র ৩০ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলেন ৫৫ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস।
মাঝপথে সূর্যকুমার যাদব (১৩ বলে ৩৩) এবং ইশান কিশান (২৪ বলে ৩৮) রানের গতি সচল রাখেন। তবে ডেথ ওভারে জিম্বাবুয়ের বোলারদের জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়ান হার্ড হিটার হার্দিক পান্ডিয়া এবং তরুণ তুর্কি তিলক বার্মা। হার্দিক ২৩ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন এবং তিলক মাত্র ১৬ বলে ৪৪ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সিকান্দার রাজা ও মুজারাবানি উইকেট পেলেও ভারতীয় ব্যাটারদের রান উৎসব থামাতে ব্যর্থ হন।
বেনেটের লড়াই বনাম ভারতীয় বোলিং লাইনআপ
২৫৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ারপ্লে-তে দ্রুত উইকেট হারিয়ে তাদের রান তোলার গতি মন্থর হয়ে যায়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। জিম্বাবুয়ে যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল, বেনেট তখন ভারতীয় স্পিনার ও পেসারদের পাল্টা আক্রমণ করেন। ৫৯ বলে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৯৭ রানের একটি দৃষ্টিনন্দন অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তাঁর এই লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ৬ উইকেটে ১৮৪ রানে। ভারতের পক্ষে পেসার আর্শদীপ সিং ২৪ রান খরচায় শিকার করেন ৩টি উইকেট। এছাড়া বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল ও শিবম দুবে ১টি করে উইকেট নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
সেমিফাইনালের সমীকরণ: ভাগ্য এখন ভারতের হাতেই
গ্রুপ-১ থেকে ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রোটিয়াদের কাছে হেরে যাওয়ায় ভারতের জন্য সেমিফাইনালের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। বর্তমানে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয় দলেরই সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। এর ফলে আগামী ম্যাচে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে যে দল জয়ী হবে, তারাই সরাসরি শেষ চারে জায়গা করে নেবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নেট রান রেটের (Net Run Rate) মারপ্যাঁচ এড়াতে ভারতের এই বিশাল ব্যবধানের জয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চেন্নাইয়ের কন্ডিশনে ভারতের এই ‘ডমিন্যান্ট পারফরম্যান্স’ (Dominant Performance) পরবর্তী হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে। এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াইয়ের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে গ্রুপ-১ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী হচ্ছে কোন দল।