• খেলা
  • মাঠের জাদুতে সমালোচকদের কড়া জবাব: নেইমারের ‘জোড়া’ ম্যাজিকে সান্তোসের প্রথম জয়

মাঠের জাদুতে সমালোচকদের কড়া জবাব: নেইমারের ‘জোড়া’ ম্যাজিকে সান্তোসের প্রথম জয়

খেলা ১ মিনিট পড়া
মাঠের জাদুতে সমালোচকদের কড়া জবাব: নেইমারের ‘জোড়া’ ম্যাজিকে সান্তোসের প্রথম জয়

ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করে সান্তোসকে মৌসুমে প্রথম জয় এনে দিলেন নেইমার জুনিয়র; পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে ওঠা বিতর্কের মোক্ষম জবাব দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফুটবলের তীর্থভূমি ‘ভিলা বেলমিরো’ (Vila Belmiro) স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে এক চিরচেনা নেইমার জুনিয়রকে দেখল ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘদিনের ফিটনেস সমস্যা আর অফ-ফর্মের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে দলকে একাই জেতালেন এই ‘Poster Boy’। ভাস্কো দা গামাকে ২–১ গোলে হারিয়ে নতুন মৌসুমে সান্তোসকে (Santos) প্রথম জয়ের স্বাদ এনে দিলেন তিনি। ম্যাচে তার দর্শনীয় ‘Brace’ বা জোড়া গোল কেবল জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং যারা তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন, তাদের জন্য এক জোরালো বার্তাও ছিল।

শুরুতেই লিড ও উদযাপনে ‘ভিনি’কে শ্রদ্ধা ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দময় ফুটবল উপহার দেন নেইমার। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর এক দুর্দান্ত ‘Clinical Finish’-এ দলকে প্রথম লিড পাইয়ে দেন তিনি। গোলের পর নেইমারের উদযাপন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমে গ্যালারির একাংশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ‘চুপ’ থাকার ইশারা করেন তিনি, যা সরাসরি তার সমালোচকদের উদ্দেশ্যেই ছিল। এরপর তিনি কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের স্টাইলে নেচে গোল উদযাপন করেন। উল্লেখ্য, ‘Champions League’ প্লে-অফে বেনফিকার বিপক্ষে একইভাবে নেচে বর্ণবাদের শিকার ভিনিসিউসের প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন নেইমার।

সমতা ও নেইমারের জয়সূচক গোল ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ভাস্কো দা গামা গোল পরিশোধ করে সমতায় ফিরলে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে নিজের জাত চেনাতে ভুল করেননি নেইমার। ৬১ মিনিটে কৌশলী ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতায় নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই ‘Winning Goal’-টি নিশ্চিত করে যে, নেইমার এখনও মাঠে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

আনচেলত্তির আল্টিমেটাম ও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন নেইমার। প্রথম ম্যাচে একটি ‘Assist’ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তার দল পরাজয়ের স্বাদ পায়। এর পরপরই নেইমারের ফিটনেস এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রাজিল জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ কার্লো আনচেলত্তির (Carlo Ancelotti) কঠোর বার্তা ছিল—শতভাগ ফিট না থাকলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কারোরই জায়গা হবে না। সেই চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নেইমারের এই জোড়া গোল তার ‘World Cup’ খেলার দাবিকে আরও জোরালো করল।

‘আমি কি সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়?’ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের মনের ক্ষোভ উগরে দেন নেইমার। সমালোচকদের বিঁধে তিনি বলেন, “মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বলা হচ্ছিল আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়। আজ আমি দুটো গোল করলাম। এটাই ফুটবল। একদিন আপনাকে মানুষ অবসরের পরামর্শ দেবে, আর পরের দিনই বলবে আপনাকে ছাড়া বিশ্বকাপ জেতা অসম্ভব।”

ব্রাজিলের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার এই ‘Comeback’ কেবল সান্তোস সমর্থকদের জন্যই নয়, বরং সেলেসাও ভক্তদের মনেও নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। ফুটবল বিশ্বে নেইমার বিতর্ক হয়তো থামবে না, তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তার উত্তর দেওয়ার ধরন আবারও ফুটবল রোমান্টিকদের মুগ্ধ করল।

Tags: neymar jr santos fc brazilian football world cup vinicius jr football fitness vasco gama neymar brace goal celebration neymar critics