দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের গ্রাফ যেন রকেট গতিতে ছুটছে। সাধারণ মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার এক লাফে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি, যার ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেল।
বাজুসের নতুন ঘোষণা ও কার্যকর সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুস থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকেই সারা দেশে কার্যকর হবে। 'Market Value' বা বাজারমূল্যের এই আকস্মিক উল্লম্ফনে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা যেমন বিস্মিত, তেমনি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি? বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে 'Pure Gold' বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ সংকট এবং এর মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা বিক্রির ওপর পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'Inflation' বা মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বিশ্বজুড়েই বাড়ছে, যার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও।
নতুন মূল্যতালিকায় কোন স্বর্ণ কত? বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। এর বাইরে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে আপাতত কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি।
জুয়েলারি খাতের ওপর প্রভাব ও বাজার পরিস্থিতি দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 'Customer Behavior' বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দাম বাড়ার ফলে অনেক সাধারণ ক্রেতাই পুরাতন অলঙ্কার বিক্রি করে দিচ্ছেন অথবা নতুন স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকছেন। অন্যদিকে, একদল বিনিয়োগকারী এই দাম বৃদ্ধিকে 'Capital Gain'-এর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম দেশের বাণিজ্যিক মহল।