রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গানের কলি— ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান’ যেন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে। চিলমারীর বিভিন্ন এলাকা এখন শিমুল ফুলের রক্তিম আভায় উদ্ভাসিত। বিশেষ করে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ি মালেক মোড় থেকে সাদুল্লা যাওয়ার সড়কের দুপাশে সারি সারি শিমুল গাছ নজর কেড়েছে সবার।
প্রকৃতির লাল গালিচায় মুগ্ধতা বসন্তের এই সময়ে চিলমারীর মেঠোপথগুলো দিয়ে হাঁটলে মনে হয় যেন কেউ যত্নে লালগালিচা বিছিয়ে রেখেছে। ঝরে পড়া শিমুল ফুল মাটিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেছে। শিমুলের এই রাজকীয় রূপ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও চোখে মুগ্ধতা—সবাই ব্যস্ত ফাগুনের এই মুহূর্তটিকে ফ্রেমে বন্দি করতে।
বিনোদনের নতুন অনুষঙ্গ এক সময় শিমুল গাছ কেবল তুলা সংগ্রহের উৎস হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বসন্তের এই কয়েকটা দিন চিলমারীর নিভৃত পল্লীর পথগুলো উৎসবের আমেজ পায়। দর্শনার্থী শান্ত ও রিফাত জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিমুলতলার ছবি দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে এখানে এসেছেন। গাছে গাছে এত বেশি ফুল ফুটেছে যে দূর থেকে মনে হচ্ছে প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে।
বিলুপ্তির পথে শিমুল গাছ প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য টিকে থাকলেও দিন দিন কমছে শিমুল গাছের সংখ্যা। স্থানীয়দের মতে, বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমে যাওয়ায় এবং নতুন করে গাছ না লাগানোর ফলে বড় বড় শিমুল গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ঋতুরাজের এই চিরচেনা রূপ ধরে রাখতে শিমুল গাছ রক্ষায় সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন।
চিলমারীর এই শিমুলতলাগুলো এখন কেবল গাছ নয়, বরং বসন্তের এক জীবন্ত ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে।