• জীবনযাপন
  • ইফতারে জিলাপির ‘মিষ্টি’ স্বাদে লুকিয়ে আছে কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি? জেনে নিন প্রতিদিন খেলে শরীরে কী ঘটে

ইফতারে জিলাপির ‘মিষ্টি’ স্বাদে লুকিয়ে আছে কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি? জেনে নিন প্রতিদিন খেলে শরীরে কী ঘটে

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
ইফতারে জিলাপির ‘মিষ্টি’ স্বাদে লুকিয়ে আছে কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি? জেনে নিন প্রতিদিন খেলে শরীরে কী ঘটে

রোজার শেষে রসে টইটম্বুর জিলাপি রসনাতৃপ্তি দিলেও রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ভারসাম্যে ঘটাতে পারে বিপর্যয়; সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা।

বাঙালি সংস্কৃতির ইফতারে প্লেটে কয়েক পিস মুচমুচে জিলাপি থাকবে না—এমনটা যেন ভাবাই যায় না। প্যাঁচানো জিলাপির রসালো স্বাদ দীর্ঘদিনের রোজার ক্লান্তি দূর করতে অনেকের কাছেই প্রথম পছন্দ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘ ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা খালি পেটে থাকার পর হুট করে চিনি ও ময়দায় তৈরি এই উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন ইফতারে জিলাপি খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিক ফাংশনে (Metabolic Function) বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

রক্তে শর্করার আকস্মিক উল্লম্ফন বা ‘সুগার স্পাইক’

জিলাপি মূলত তৈরি হয় ময়দা দিয়ে এবং এটি দীর্ঘ সময় চিনির সিরায় ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে কার্বোহাইড্রেট ও রিফাইনড সুগারের (Refined Sugar) পরিমাণ থাকে অত্যন্ত বেশি। এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (Glycemic Index) অনেক উঁচুতে হওয়ায় ইফতারে খালি পেটে এটি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হু হু করে বেড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আবার শর্করার মাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুগার ক্র্যাশ’ বলা হয়। ফলে ইফতারের পর ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ

প্রতিদিন যখন রক্তে বিপুল পরিমাণ চিনি প্রবেশ করে, তখন সেটি নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় বা প্যাংক্রিয়াসকে (Pancreas) অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণ করতে হয়। নিয়মিত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে, যাকে বলা হয় ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ (Insulin Resistance)। এর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়, বিশেষ করে যাদের বংশগত ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে।

হজমে ব্যাঘাত ও মারাত্মক গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর পাকস্থলী যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে, তখন ডুবো তেলে ভাজা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি জিলাপি হজম করা শরীরের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া (Heartburn) কিংবা মারাত্মক অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। জিলাপিতে ব্যবহৃত তেল যদি মানসম্মত না হয় কিংবা বারবার একই তেল ব্যবহার করা হয়, তবে তা লিভারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ওজন বৃদ্ধি ও কোলেস্টেরল ঝুঁকি

জিলাপি কেবল চিনি নয়, এটি ক্যালরি এবং ফ্যাট বা চর্বির আধার। নিয়মিত জিলাপি খাওয়ার ফলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি পায়। এটি ধমনীর দেওয়ালে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে, যা হার্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এই খাবারটি মেদবহুল শরীর বা ওবেসিটির প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে কি ইফতারে জিলাপি একেবারেই ব্রাত্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিলাপি একেবারেই পরিহার করতে হবে এমন নয়, তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে হতে হবে কৌশলী ও নিয়ন্ত্রিত।

১. পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে এক-আধবার ১টি ছোট সাইজের জিলাপি খাওয়া যেতে পারে। ২. খাওয়ার সময়: ইফতার শুরু করুন পানি, খেজুর এবং সহজপাচ্য কোনো ফল বা তরল খাবার দিয়ে। পাকস্থলী যখন কিছুটা স্থিতিশীল হবে, তখন খুব অল্প পরিমাণে মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। ৩. বিকল্প চিন্তা: জিলাপির বদলে মৌসুমি ফল কিংবা ঘরে তৈরি দই-চিড়া হতে পারে শর্করার প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর উৎস।

রমজানের পবিত্রতায় সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। তাই রসনাতৃপ্তিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের মূল্যবান স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না।

Tags: weight gain blood sugar insulin resistance gastric issues sugar spike ramadan diet healthy iftar jilapi health iftar food cholesterol tips