• আন্তর্জাতিক
  • তেহরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ইসরাইলের প্রলয়ংকরী হামলা: দাউদাউ করে জ্বলছে উড়োজাহাজ, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

তেহরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ইসরাইলের প্রলয়ংকরী হামলা: দাউদাউ করে জ্বলছে উড়োজাহাজ, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
তেহরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ইসরাইলের প্রলয়ংকরী হামলা: দাউদাউ করে জ্বলছে উড়োজাহাজ, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ইরানের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর; পাল্টা জবাবে জেরুজালেম ও দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরম সীমায়। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক সংঘাতের রেশ ধরে এবার সরাসরি ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের আঘাত হানলো ইসরাইলি বিমান বাহিনী। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে তেহরানের অন্যতম ব্যস্ত ও বাণিজ্যিক মেহেরবাদ বিমানবন্দরে (Mehrabad Airport) প্রলয়ংকরী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই হামলার পর পুরো বিমানবন্দর এলাকা আগুনের গোলকায় পরিণত হয়, যা সরাসরি যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আগুনের লেলিহান শিখায় মেহেরবাদ: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মেহেরবাদ বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ দাউদাউ করে জ্বলছে। আকাশজুড়ে দেখা যাচ্ছে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতের এই বোমাবর্ষণকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ (Precision Strike) হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। হামলার প্রচণ্ডতায় বিমানবন্দরের টার্মিনালসহ আশেপাশের স্থাপনা কেঁপে ওঠে, যা তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্রে (Satellite Imagery) দেখা গিয়েছিল, মেহেরবাদ বিমানবন্দরের অ্যাপ্রন এলাকায় বেশ কিছু যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান অবস্থান করছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও স্বীকার করেছে যে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঠিক কতটি বিমান বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো তেহরান প্রকাশ করেনি।

কেন মেহেরবাদকে লক্ষ্যবস্তু বানালো ইসরাইল?

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মেহেরবাদ বিমানবন্দরটি ইরানের সামরিক রসদ সরবরাহ এবং ড্রোন ও হেলিকপ্টার তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এর আগে গত ৪ মার্চও এই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। সে সময় পেন্টাগন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছিল, সেখানে থাকা ইরানের অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম এবং হেলিকপ্টার উৎপাদন ইউনিটটি ইসরাইলি বিমান বাহিনীর জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবারের ‘নতুন দফার ব্যাপক বিমান হামলা’ মূলত সেই সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত মিশন।

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হানা ও ইসরাইলে হাই-অ্যালার্ট

মেহেরবাদে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দক্ষিণ ইসরাইল এবং জেরুজালেমে বেজে ওঠে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (Air Defense System) বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং বেশ কিছু ইনকামিং (Incoming) ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দেশটির নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কতা পাঠিয়ে নিরাপদ স্থানে বা শেল্টারে (Shelter) অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করছে ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার কথা, অন্যদিকে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরের এই ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ (Strategic) অবস্থান হিসেবে মেহেরবাদের গুরুত্ব ইরান ও ইসরাইল উভয়ের জন্যই অপরিসীম।

Tags: middle east air defense missile strike global conflict satellite imagery israel iran war military update mehrabad airport tehran attack airstrike news