• দেশজুড়ে
  • গড়াই নদীতে গোসলে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনও নিখোঁজ ২

গড়াই নদীতে গোসলে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনও নিখোঁজ ২

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
গড়াই নদীতে গোসলে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনও নিখোঁজ ২

কুষ্টিয়ার খোকসায় ওসমানপুর খেয়াঘাটে আনন্দের জলকেলি মুহূর্তেই রূপ নিল বিষাদে; সাহসী মাঝির প্রচেষ্টায় দুই প্রাণ রক্ষা পেলেও বাকিদের সন্ধানে চলছে ব্যাপক ‘সার্চ অপারেশন’।

স্রোতস্বিনী গড়াইয়ের বুকে এক আনন্দময় দুপুর মুহূর্তেই রূপ নিল ভয়াবহ বিষাদে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় নদীতে গোসল করতে নেমে চার শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক মাঝির অদম্য সাহসিকতায় দুই শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও নদীর অতল গহ্বরে নিখোঁজ রয়েছে আরও দুই শিশু। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিশেষায়িত ডুবুরি দল তল্লাশি শুরু করেছে।

আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ: কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন গড়াই নদীতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রখর রোদে নদীর শীতল জলে শরীর ভেজাতে একই গ্রামের চার শিশু একত্রে গড়াইয়ের পাড়ে আসে। তারা হলো— ওসমানপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে তাইবা খাতুন (৮), সোহেলের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (৮), তুহিনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১০) এবং সোহেলের অন্য মেয়ে সামিয়া (৯)।

গোসলের একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কাছে হার মানে তারা। মুহূর্তের মধ্যেই পানির তোড়ে চারজনই তলিয়ে যেতে থাকে। শিশুদের আর্তচিৎকারে নদীর ঘাটে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

সাহসী মাঝির তৎপরতায় রক্ষা পেল দুই প্রাণ

শিশুদের ডুবে যেতে দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন ঘাটের খেয়া মাঝি আব্দুর রশিদ (৫৫)। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তিনি সুমাইয়া খাতুন (১০) এবং সামিয়াকে (৯) টেনে পাড়ে তুলে আনতে সক্ষম হন। তার এই তাৎক্ষণিক ‘লাইফ-সেভিং’ প্রচেষ্টায় দুই শিশুর প্রাণ রক্ষা পায়। তবে বাকি দুই শিশু তাইবা ও সুরাইয়া চোখের পলকেই খরস্রোতা গড়াইয়ের গভীরে তলিয়ে যায়।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও স্পেশালিস্ট ডুবুরি দল

নিখোঁজ তাইবা ও সুরাইয়ার সন্ধানে বর্তমানে নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ অপারেশন’ চালানো হচ্ছে। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের কর্মীরা খবর পাওয়ার পর থেকেই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তবে নদীর গভীরতা ও স্রোত বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে খুলনা থেকে একটি বিশেষায়িত ডুবুরি দল (Specialized Diver Team)-কে তলব করা হয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা গড়াইয়ের পাড়ে অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন, তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সাথে জনসাধারণের প্রতি নদী বা জলাশয়ে শিশুদের নামার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tags: local news fire service rescue operation kushtia news drowning incident gorai river missing children khoksa tragedy boatman hero emergency search