মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নারী দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।
নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত ও রাজনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি অন্তত যাদেরকে উগ্রবাদী ফোর্স হিসেবে চিন্তা করি, নারী সমতা, নারী নেতৃত্ব বা নারীদের মর্যাদা নিয়ে যাদের চিন্তা-চেতনা ভিন্ন, তারা বিশাল অঙ্কের ভোট জয় করে আমাদের দেশে এখন বিরোধী দলের স্থান করে নিয়েছেন।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, তারা তাদের স্থানে পরিষ্কার যে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবে না।
যদি কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, একটু জাস্ট ইউটিউবে গিয়ে তাদের ভাষণ শুনে নেবেন। জাতিগতভাবে আমাদের ৫৫ বছরের ইতিহাসে আগে কখনো এতটা উগ্রপন্থী বা নারী-বিরোধী ছিলাম না। এবার আমরা হয়েছি। এর মানে আমাদের ওপর আরও বেশি দায়িত্ব আছে। তিনি বলেন, আমরা এখন দেখছি সমাজের সব জায়গায় একটি রক্ষণশীল চিন্তাধারার দিকে চলে যাচ্ছি। আমাদের জাতীয় কিছু কালচার আছে, সেটা ঠিক আছে। আমাদের ধর্মীয় কিছু অনুভূতি আছে, সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু কোনোটাই রক্ষণশীল না।
রক্ষণশীলতার দিকে যদি আপনারা যেতে দেন, তাহলে ক্রমাগত সেটাই যেতে থাকবে। এসময় নিজের নির্বাচনী এলাকার উদাহরণ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচনে দুইজন মেজর ক্যান্ডিডেট ছিল। একজন ছিলাম আমি, আরেকজন ছিলেন যার মূল পরিচিতি ধর্মীয় আলেম হিসেবে। তিনি তার বক্তব্যে পরিষ্কার করেছিলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন, নারীদের রাজনীতিতে কোনো জায়গা নেই। নেতৃত্বে নারীদের কোনো জায়গাই নেই।
এটা তার বিশ্বাস; গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় এই বিশ্বাস তিনি করতেই পারেন। কিন্তু দুইজন প্রধান ক্যান্ডিডেটের একজনের বিশ্বাস নারীদেরকে সোশ্যাল সব প্ল্যাটফর্ম এবং ফোরাম থেকে মুছে দাও। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের একটি প্রধান লক্ষ্য হলো সমতার সরকার ব্যবস্থা গঠন করা। ফলে সবার সমঅধিকার সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নারী সমাজ অনেকভাবে পিছিয়ে আছে। আমরা ১৮০ দিনের বাস্তবায়নযোগ্য যে পরিকল্পনা করেছি, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা একটি অতিরিক্ত পরিসর রাখতে চেষ্টা করছি, যেন আমরা সাম্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থা গড়তে পারি।