• আন্তর্জাতিক
  • যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী

আ. আওয়াজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই ডক্টরাল (পিএইচডি) শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ। দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক। খবর এনবিসি নিউজের ।

পুলিশে বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সবশেষ তাদের দুজনকে দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছেন লিমন। তাকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তার বাসায় দেখা যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে।

বৃষ্টিকেও একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল এন্ড এনভারনমেন্টাল সাইন্সেস বিল্ডিংয়ে শেষবার দেখা যায়। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন। তার ক্ষেত্রেও নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, লিমনের বাসা থেকে বৃষ্টির সর্বশেষ অবস্থানস্থল প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে। তারা দুজন বন্ধু এবং একসঙ্গে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপরই নিখোঁজ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু হয় এবং তাদের তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও ছিল। তারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে এমনভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছিলেন না।

বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কে ছিলেন না।

নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তার ল্যাবে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও খাবারের বক্স রেখে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে শুধু পার্স ও মোবাইল ফোন ছিল। অন্যদিকে, লিমন বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হলেও তার পাসপোর্ট বাসায় পাওয়া গেছে।

পরিবার জানায়, লিমনের ফোনের শেষ অবস্থান বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার বাসার আশপাশে এবং বৃষ্টির ফোন বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় শনাক্ত হয়। তবে সিসিটিভিতে এখনো কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা কেউই এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকার মতো মানুষ নন। হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় পরিবার গভীর উদ্বেগ ও কষ্টে রয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় এফবিআইয়ের সম্পৃক্ততা চেয়েছে। এছাড়া আইসিই নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে নেই।