বলিউড মেগাস্টার সালমান খানের পরিবার ও অনুরাগীদের জন্য স্বস্তির খবর। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুম্বাইয়ের বিখ্যাত লীলাবতী হাসপাতালের ‘Intensive Care Unit’ (ICU)-তে ভর্তি করা হয়েছিল বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা সেলিম খানকে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ কাটতে শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ‘Medical Bulletin’ অনুযায়ী, সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা এখন যথেষ্ট স্থিতিশীল।
সঙ্কট কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে সেলিম খান হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৮৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এখন চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। তিনি বর্তমানে বিছানায় উঠে বসতে পারছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন। তার এই দ্রুত উন্নতিতে চিকিৎসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং এই উন্নতির ধারা বজায় থাকলে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ‘Discharge’ করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রুটিন চেকআপ থেকে আকস্মিক হাসপাতালে ভর্তি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সেলিম খান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মূলত একটি ‘Routine Checkup’-এর জন্যই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক প্যারামিটারগুলোতে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। নিরাপত্তার খাতিরে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনে তাকে প্রথমে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাকে কেবিনে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বলিউড চিত্রনাট্যের মহীরুহ: এক বর্ণিল ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপট সেলিম খান কেবল সালমান খানের বাবা হিসেবেই নন, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক অন্যতম কারিগর হিসেবে শ্রদ্ধেয়। আশির দশকে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার জুড়ি (Salim-Javed) বলিউডকে উপহার দিয়েছে একের পর এক ‘Blockbuster’ এবং ‘Celluloid Classic’। ‘শোলে’, ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘সীতা অর গীতা’ কিংবা ‘ডন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তার ক্ষুরধার লেখনীরই ফসল। ভারতীয় সিনেমায় ‘Angry Young Man’ ইমেজের স্রষ্টা হিসেবে তাকে এক অনন্য ‘Milestone’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় সরব হয়েছেন অগণিত ভক্ত ও বলিউড তারকারা। গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের অভিভাবকের সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে গোটা খান পরিবার।