২০১৯ সালের ‘মিসেস ইন্ডিয়া’ সায়লী সুর্বে— গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অথচ এই সাফল্যের আলোকচ্ছটার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ও যন্ত্রণার আখ্যান। ভালোবাসার টানে ধর্ম ও জীবনধারা বদলে যে পথ বেছে নিয়েছিলেন সায়লী, শেষ পর্যন্ত সেই পথই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। দীর্ঘ কয়েক বছরের নিরবতা ভেঙে অবশেষে স্বামীর ঘর ছেড়ে নিজের পুরনো ধর্ম ও শিকড়ে ফিরে এসেছেন তিনি।
মোহের আড়ালে লুকানো এক ধূসর জীবন সায়লী সুর্বের জীবনের মোড় ঘুরেছিল আতিফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। সায়লীর ভাষ্যমতে, সেই সময়কার আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত অপরিণত বয়সের একটি ভুল। প্রিয় মানুষটির জন্য নিজের দীর্ঘদিনের ধর্ম বিশ্বাস বিসর্জন দিয়ে আতিফকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের কিছুকাল পরেই মোহভঙ্গ হতে শুরু করে। সায়লীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নেমে আসে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। যে ভালোবাসার আশায় তিনি ঘর বেঁধেছিলেন, সেখানে প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় গালিগালাজ আর মারধর।
গ্ল্যামার বনাম ঘরোয়া লাঞ্ছনা: নীরবতা ভাঙার গল্প বাইরে যখন তিনি ‘মিসেস ইন্ডিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন, তখন চার দেয়ালের ভেতরে চলছিল এক ‘Toxic Relationship’-এর লড়াই। সায়লী জানান, চার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি বছরের পর বছর এই লাঞ্ছনা সহ্য করে গিয়েছেন। একজন ‘Public Figure’ হয়েও ব্যক্তিগত জীবনের এই ‘Domestic Violence’ নিয়ে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করতেন তিনি। কিন্তু একটা সময় সেই সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায়। নিজের ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মান রক্ষায় অবশেষে তিনি বিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
নতুন পরিচয় ও শুদ্ধিকরণ: সায়লী থেকে ‘আদ্যা’ সম্প্রতি নিজের পৈতৃক আবাসে এক ধর্মীয় ‘Shuddhikaran’ (শুদ্ধিকরণ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় সনাতন ধর্মে ফিরেছেন সায়লী। কেবল ধর্ম পরিবর্তনই নয়, নিজের আমূল পরিবর্তনের লক্ষে তিনি বদলে ফেলেছেন নিজের নামও। এখন থেকে তিনি আর সায়লী নন, বরং ‘আদ্যা’ নামেই নিজের নতুন পরিচয় গড়ে তুলতে চান। তার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সমর্থন থাকলেও, অতীতের সেই অন্ধকার অধ্যায় তাকে বারবার তাড়িয়ে বেড়ায়।
নারীদের প্রতি শক্তিশালী বার্তা নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সায়লী তথা আদ্যা এখন অন্যান্য নারীদের সচেতন করতে সরব হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ‘Love’ এবং ‘Relationship’-এর ক্ষেত্রে দ্রুত আবেগী সিদ্ধান্ত নেয়া ধ্বংসাত্মক হতে পারে। অন্য নারীদের উদ্দেশে তার স্পষ্ট আহ্বান— “কোনো পরিস্থিতিতেই অত্যাচার মেনে নেবেন না।” নিজের অধিকার বুঝে নেয়া এবং সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার।
গ্ল্যামার জগতের এই তারকার ফিরে আসা কেবল একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক শক্তিশালী আখ্যান হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, নতুন পরিচয়ে ‘আদ্যা’ তার ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনকে কীভাবে নতুন করে সাজিয়ে তোলেন।