• রাজনীতি
  • ভারতের সঙ্গে ‘টেকসই’ সম্পর্কের সমীকরণ: শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লিকে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের

ভারতের সঙ্গে ‘টেকসই’ সম্পর্কের সমীকরণ: শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লিকে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভারতের সঙ্গে ‘টেকসই’ সম্পর্কের সমীকরণ: শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লিকে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের

‘গত ১৫ বছর সম্পর্ক ছিল কেবল ব্যক্তির সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে নয়’; দ্বিপাক্ষিক মৈত্রীর নতুন রোডম্যাপ ও জ্বালানি আমদানির নীতি স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সিলেট: প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত দেড় দশকে দুই দেশের যে সম্পর্ক ছিল, তা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক। বর্তমান সরকার সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে একটি গভীর ও ‘Sustainable’ বা টেকসই সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে, যেখানে দুই দেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ব্যক্তিনির্ভর নয়, কাম্য জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিগত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের প্রকৃত অর্থে কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। দিল্লির সম্পর্ক ছিল কেবল শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে। একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক যদি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দলের ওপর নির্ভর করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপাক্ষিক মৈত্রীকে স্থায়িত্ব দিতে হলে ‘People-to-People connection’ বা জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

দিল্লি ও শেখ হাসিনা ইস্যু: সম্পর্কের নতুন শর্ত ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা। ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আমরা আন্তরিক। তবে এখানে একটি বড় ‘Challenge’ রয়েছে। আমাদের দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়, তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক টেকসই করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

তিনি আরও যোগ করেন, দিল্লি যদি এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে যে তাদের ভূমি ব্যবহার করে বাংলাদেশে কোনো অস্থিতিশীলতা ছড়ানো হবে না, তবে সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।

জ্বালানি আমদানিতে জাতীয় স্বার্থ ও বাজারমূল্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে ডিজেল আমদানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির সরকারের বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, সরকার কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। যেখানে ‘Fair Price’ বা সবচেয়ে ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি পাওয়া যাবে এবং দেশের চাহিদা পূরণ হবে, সেখান থেকেই বাংলাদেশ জ্বালানি সংগ্রহ করবে। এক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যকে (Market Value) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও প্রবাসীদের সুরক্ষা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা (Visa Complexity), ফ্লাইটের সুব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে একটি ‘Inter-ministerial Committee’ বা আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যাতে কোনো সংকটে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার নিয়মিত মনিটরিং করছে।”

সিলেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই সফর ও বক্তব্য বর্তমান সরকারের পরিবর্তিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Tags: sheikh hasina india bangladesh foreign policy humayun kabir middle east crisis expatriate welfare sustainable relation energy import