বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক ধোঁয়াশা। কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই চলচ্চিত্রটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ (Matrubhoomi: May War Rest In Peace)। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা ছিল।
গালওয়ান থেকে ‘মাতৃভূমি’: নাম বদলের নেপথ্য কাহিনী
গেল বছরের ২৭ ডিসেম্বর নিজের জন্মদিনে এই ছবির একটি হাই-ভোল্টেজ টিজার (Teaser) প্রকাশ করেছিলেন সালমান খান। তখন থেকেই ছবিটির নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। তবে হঠাৎ করে এই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিনোদন জগৎ ছাড়িয়ে এখন ভূ-রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ‘গালওয়ান’ শব্দটি ব্যবহার না করে কিছুটা গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং দার্শনিক ঘরানার নাম বেছে নিয়েছেন নির্মাতারা।
বেজিংয়ের আপত্তি ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সিনেমার প্রেক্ষাপট নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি তুলেছিল বেজিং। চীনা গণমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিনেমাটি জাতীয়তাবাদ (Nationalism) উসকে দেওয়ার একটি ‘অস্ত্র’ এবং এতে চীনা সেনাবাহিনীকে অবমাননাকরভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ (Diplomatic Pressure) এড়াতেই হয়তো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া এই কৌশলগত নাম পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি (Official Statement) পাওয়া যায়নি।
চরিত্রের প্রয়োজনে ‘ভাইজান’-এর কঠোর পরিশ্রম
নাম বদলালেও ছবিতে সালমান খানের দৃঢ়তা ও অভিনয়ের আবেদন বিন্দুমাত্র কমছে না। ‘মাতৃভূমি’ ছবিতে সালমান খানকে দেখা যাবে গালওয়ান সংঘর্ষে ভারতীয় বাহিনীর সম্মুখসারির এক নির্ভীক সেনার (Frontline Soldier) চরিত্রে। এই চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে গত কয়েক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি বিশেষ ডায়েট চার্ট মেনে চলার পাশাপাশি প্রেশার চেম্বারে (Pressure Chamber Training) দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এমনকি ভারতীয় সেনার প্রকৃত রণকৌশল ও নেতৃত্বের ধরন বুঝতে তিনি একাধিক সেনাসদস্যের সাথে সময় কাটিয়েছেন।
গল্পের বুনন কি একই থাকছে?
সিনেমাটির নাম পরিবর্তিত হলেও এর মূল কাহিনী বিন্যাস বা চিত্রনাট্যে বড় কোনো রদবদল আসছে কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক জল্পনা। তবে নির্মাতাদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ছবির মূল আবেগ ও দেশপ্রেমের সুর অক্ষুণ্ণ রেখেই নতুন নাম দেওয়া হয়েছে। একজন দুর্ধর্ষ অ্যাকশন হিরো হিসেবে সালমানের এই নতুন অবতার বক্স অফিসে (Box Office) বড় ধরনের মাইলফলক তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অ্যাকশন থ্রিলার (Action Thriller) সিনেমাটি কেবল বিনোদন নয়, বরং ভারতীয় ইতিহাসের এক সংবেদনশীল অধ্যায়কে সেলুলয়েডে তুলে ধরবে।