পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার এই সময়ে দেশের বাজারে গহনাপ্রেমী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির সংবাদ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৈশ্বিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) বাজারদর বিশ্লেষণ করে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও এক দফা কমানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর রয়েছে। শুধু স্বর্ণই নয়, ঈদ শপিংয়ের এই মৌসুমে রুপার দামেও এসেছে বড় পতন।
স্বর্ণের বাজারে নতুন দামের চিত্র
বাজুসের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা।
নিচে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর (প্রতি ভরি) তুলে ধরা হলো:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
স্বর্ণ আমদানিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে ‘Tejabi Gold’-এর সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য সমন্বয় (Price Adjustment) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
রুপার দামেও ব্যাপক হ্রাস
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলঙ্কার যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্যও রয়েছে সুখবর। বাজুস এবার রুপার দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। ভরিপ্রতি ২৯২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
রুপার বর্তমান বাজারদর:
২২ ক্যারেট: ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।
সমন্বয়ের নেপথ্যে ও বাজার প্রবণতা
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৪৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ১৭ বার কমানো হয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম ওঠানামা করেছিল। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় হার এবং স্বর্ণের ‘Market Value’ পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা দিচ্ছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিয়ের মৌসুম এবং ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত ক্রেতা সমাগম বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাজেটের মধ্যে গহনা কেনার একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলো।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, উল্লিখিত দামের সঙ্গে জুয়েলারি দোকানগুলো ভ্যাট ও মজুরি (Making Charge) যুক্ত করে চূড়ান্ত বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তাই গহনা কেনার আগে নির্ভরযোগ্য শোরুম থেকে সর্বশেষ মেকিং চার্জ যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।