• আন্তর্জাতিক
  • ‘অকৃতজ্ঞ’ মিত্রদের ওপর ফুঁসছেন ট্রাম্প: হরমুজ প্রণালি সংকটে কি একা পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র?

‘অকৃতজ্ঞ’ মিত্রদের ওপর ফুঁসছেন ট্রাম্প: হরমুজ প্রণালি সংকটে কি একা পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘অকৃতজ্ঞ’ মিত্রদের ওপর ফুঁসছেন ট্রাম্প: হরমুজ প্রণালি সংকটে কি একা পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য; জাপান-অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহায় ওয়াশিংটনে তীব্র ক্ষোভ।

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক ভয়াবহ বাঁকে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে রণক্ষেত্রের উত্তাপ কেবল ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘Strait of Hormuz’ বা হরমুজ প্রণালিতে। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে দীর্ঘদিনের মিত্রদের পাশে না পেয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত নৌ-সহায়তার আহ্বান জানানো হলেও, তাতে সাড়া দেয়নি অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্র।

মিত্রদের ‘অকৃতজ্ঞতা’ ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কড়া ভাষায় মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তালিকায় এমন কিছু দেশের নাম রয়েছে যাদের যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অথচ আজ যখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন তারা কার্যকর কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছে না। এই অকৃতজ্ঞতা মেনে নেওয়া কঠিন।”

ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে চিরতরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের Geopolitical Strategy বা ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অচল হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ব অর্থনীতির অশনিসংকেত

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে রয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে। বিশ্বের মোট উত্তোলিত জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এই রুটটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক Supply Chain-এ বিপর্যয় ডেকে আনছে। জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে হু-হু করে বাড়ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে Global Economy বা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। ট্রাম্পের দাবি, এই পথে চলাচলকারী অধিকাংশ ট্যাংকারই অন্য দেশগুলোর, অথচ পাহারার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হচ্ছে।

দুবাই থেকে বাগদাদ: আগুনের লেলিহান শিখা

গত ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধের ভয়াবহতা বহুগুণ বেড়েছে। সোমবার রাতভর তেল আবিব ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইসরাইলের পক্ষ থেকে অধিকাংশ হামলা প্রতিহতের দাবি করা হলেও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর আশেপাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সংঘাতের আঁচ লেগেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। দুবাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অন্যদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালানো হয়েছে। অন্তত পাঁচটি ড্রোন ও রকেট হামলায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পাল্টা আক্রমণে ইসরাইল ও লেবানন ফ্রন্ট

ইরানি হামলার জবাবে ইসরাইলি বিমানবাহিনী তেহরান, শিরাজ ও তাবরিজ শহরের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের Air Strike পরিচালনা করেছে। তেহরানের পূর্বাঞ্চলে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ফলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে উত্তর সীমান্তে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরাইলের নাহারিয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের (All-out War) আবহ বিরাজ করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের এই অনীহা কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে NATO বা ন্যাটো এবং এশীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে মার্কিন নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Tags: middle east us embassy geopolitics global economy international relations trump news iran war israel conflict hormuz strait oil price