টেনিস বিশ্বের নতুন রাজা হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ইতালিয়ান সেনসেশন ইয়ানিক সিনার। ড্যানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে ইন্ডিয়ান ওয়েলস শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তিনি নাম লিখিয়েছেন কিংবদন্তি রজার ফেদেরার ও নোভাক জোকোভিচের পাশে। বিশ্বের দুই নম্বর এই তারকা এখন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড়, যিনি হার্ড-কোর্টের (Hard-Court) সবকটি ‘এটিপি মাস্টার্স ১০০০’ (ATP Masters 1000) টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের অনন্য গৌরব অর্জন করলেন।
মেদভেদেভ বনাম সিনার: স্নায়ুচাপের এক লড়াই
ক্যালিফোর্নিয়ার মরুপ্রান্তরে ফাইনাল ম্যাচটি ছিল গতির চেয়েও বেশি কৌশল ও ধৈর্যের। রাশিয়ার ড্যানিল মেদভেদেভকে সরাসরি সেটে হারালেও লড়াইটি মোটেও সহজ ছিল না। ২৪ বছর বয়সি সিনার ৭-৬ (৮-৬), ৭-৬ (৭-৪) গেমে জয় ছিনিয়ে নেন। দুই সেটেই খেলা গড়িয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর টাই-ব্রেকারে (Tie-breaker)। মেদভেদেভের রক্ষণাত্মক দেয়াল ভেঙে পয়েন্ট আদায় করতে সিনারকে লড়তে হয়েছে ক্লান্তির বিরুদ্ধেও। শেষ পর্যন্ত মানসিক দৃঢ়তা ও আগ্রাসী ফরহ্যান্ডের ওপর ভর করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজের করে নেন এই ইতালিয়ান তারকা।
রজার ও নোভাকের কাতারে সিনার
ইন্ডিয়ান ওয়েলসের এই সাফল্য সিনারকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। টেনিস ইতিহাসের মহানায়ক রজার ফেদেরার ও বর্তমান সময়ের মহাতারকা নোভাক জোকোভিচের পর সিনারই প্রথম কোনো খেলোয়াড়, যিনি হার্ড-কোর্টের ক্যালেন্ডারে থাকা সবকটি এটিপি মাস্টার্স ১০০০ ইভেন্ট জয় করেছেন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে কেন বর্তমান টেনিস সার্কিটে তাকে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছে।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘ত্যাগ’ ও একাগ্রতা
শিরোপা জয়ের পর এক মজার তথ্য শেয়ার করেন ইয়ানিক সিনার। কোর্টে মনোযোগ ধরে রাখতে তাকে প্রিয় স্পোর্টস ‘ফর্মুলা ওয়ান’ (Formula One) দেখার লোভ সামলাতে হয়েছে। সিনার বলেন, “আমি চাইনিজ গ্র্যান্ড প্রিক্স (Chinese Grand Prix) দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা ছিল মাঝরাতে। ফাইনালের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ফোকাস ঠিক রাখতে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছি। এই ত্যাগ বৃথা যায়নি।”
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ম্যাচ চলাকালীন কিছু সময় আমি বেশ ক্লান্ত অনুভব করছিলাম। কিন্তু নিজেকে শান্ত রেখে আবার ছন্দে ফেরার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেনিস খেলার লক্ষ্য রয়েছে আমার।”
অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন
এবারের ইন্ডিয়ান ওয়েলসে সিনারের আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। পুরো টুর্নামেন্টে একটি সেটও হারেননি তিনি। চলতি বছরে এটিই তার প্রথম শিরোপা। এই জয় তাকে র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর তারকা হওয়ার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। সিনারের এই ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টেনিসে 'বিগ থ্রি'-র যুগ শেষে এখন শুরু হতে যাচ্ছে 'সিনার-যুগ'।