বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) এবার দেখা যাবে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের গতিঝড়। প্রথমবারের মতো এই আসরে ডাক পেয়েছেন তিনি। সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল পেশোয়ার জালমি আসন্ন ২০২৬ মৌসুমের জন্য সরাসরি চুক্তিতে (Direct Signing) এই টাইগার পেসারকে তাদের ডেরায় ভিড়িয়েছে।
সিংহাসনে ‘বেঙ্গল টাইগার’: জালমির রাজকীয় অভ্যর্থনা
সোমবার (১৬ মার্চ) পেশোয়ার জালমি তাদের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তির খবরটি নিশ্চিত করে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ডিজিটাল পোস্টারে শরিফুলকে একজন ‘বেঙ্গল টাইগার’ হিসেবে সিংহাসনে বসা অবস্থায় চিত্রায়িত করা হয়েছে। জালমি কর্তৃপক্ষ তাদের বার্তায় জানিয়েছে, শরিফুলের আগমনে তাদের ‘ইয়েলো স্টর্ম’ (Yellow Storm) বা হলুদ ঝড় আরও শক্তিশালী হবে। এই এক্সপ্রেস পেসার মাঠে বল হাতে ঝড় তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শরিফুলের কার্যকর পথচলা
২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস ইউনিটের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন শরিফুল ইসলাম। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে তার ভ্যারিয়েশন ও ডেথ ওভারের বোলিং দক্ষতা তাকে বৈশ্বিক লিগগুলোর নজরে নিয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১৪টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে এবং ৫৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান বেশ ঈর্ষণীয়। ক্যারিয়ারে ১৫৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ১৯৫টি উইকেট শিকার করেছেন, যেখানে তার গড় ছিল মাত্র ২২.২৭। এছাড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) ইতিহাসেও শীর্ষ ১০ উইকেট শিকারির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। পিএসএলের হাই-ভোল্টেজ মঞ্চে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দলে শরিফুলের অন্তর্ভুক্তি তার ক্যারিয়ারে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
পরিবর্তিত কলেবরে ২০২৬ পিএসএল
আসন্ন ২০২৬ সালের পিএসএল আসরটি হতে যাচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। এবারই প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে মোট ৮টি দল অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানের ছয়টি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই রোমাঞ্চকর লড়াই। সাবেক চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে আগামী ২৮ মার্চ। রাওয়ালপিন্ডি ভেন্যুতে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ পিন্ডি ওয়ারিয়র্স।
শরিফুলের এই সুযোগ পাওয়ার ফলে বিপিএল ও আইপিএলের পর পিএসএলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হলো। বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির পিচগুলোতে শরিফুলের ‘সুইং’ এবং ‘কাটার’ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ভক্ত-অনুরাগীরা।