• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী ‘টার্গেটেড কিলিং’: ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ৩ শীর্ষ নেতাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী ‘টার্গেটেড কিলিং’: ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ৩ শীর্ষ নেতাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী ‘টার্গেটেড কিলিং’: ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ৩ শীর্ষ নেতাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

নিরাপত্তা পর্ষদ প্রধান আলি লারিজানির পর এবার গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে নিকেশের দাবি তেল আবিবের; তেহরানে শোকের ছায়া থাকলেও দমে না যাওয়ার ঘোষণা আব্বাস আরাঘচির।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এখন খাদের কিনারায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের ওপর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নিখুঁত সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধানকে হত্যার পর এবার দেশটির গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী (Intelligence Minister) ইসমাইল খতিবকে আকাশপথে হামলা চালিয়ে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

একই সূত্রে গাঁথা ৩ হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের এই দাবি যদি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত দুই দিনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তৃতীয় বড় ধরনের আঘাত। মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় (Air Strike) নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রভাবশালী সেক্রেটারি ও সাবেক স্পিকার আলি লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের (Basij Force) প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি। পরদিন অর্থাৎ বুধবার গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যার দাবি তেহরানের জন্য এক বিশাল ‘ইন্টেলিজেন্স ফেইলিওর’ বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ বলয়ে আঘাত আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিমের মতে, ইসমাইল খতিব কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই High-profile Assassination বা উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ড ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর একদম মূলে করা আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ইসরায়েল সরাসরি ইরানের নব্য নেতৃত্বের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পিছপা হতে নারাজ তেহরান শীর্ষ তিন নেতার মৃত্যুতে ইরানে শোকের ছায়া নামলেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ভোরের দিকে আলি লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার বা বিপ্লবের আদর্শ কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।" তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, লারিজানির মতো প্রভাবশালী নেতার প্রস্থান ইরানের সামগ্রিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। উল্লেখ্য, লারিজানি ছিলেন পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় (Nuclear Negotiation) নেতৃত্ব দেওয়া অন্যতম ঝানু কূটনীতিক।

ইসরায়েলের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ নীতি ইসরায়েলি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই তিনটি অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (IDF) শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য আগেভাগেই অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। ফলে প্রতিটি হামলার আগে আলাদা করে রাজনৈতিক অনুমোদনের প্রয়োজন হচ্ছে না, যা ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক কৌশলের এক নতুন পর্যায়।

চলমান পরিস্থিতি ও জানাজা বুধবার আলি লারিজানি ও গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই শোকযাত্রাকে কেন্দ্র করে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ বা পাল্টা হামলার হুমকি আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাসিজ ফোর্সের কমান্ডারের মৃত্যু ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের মিলিশিয়া বাহিনীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের শীর্ষ তিন নেতার এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর খবরের প্রতিক্রিয়া কীভাবে জানায় এবং যুদ্ধের এই নয়া ফ্রন্টে পাল্টাপাল্টি লড়াই কতদূর গড়ায়।

Tags: middle east global news war update iran israel air strike ali larijani mojtaba khamenei intelligence minister targeted killing ismail khatib