রাঙ্গামাটিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্র গুলো। রাঙ্গামাটির প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুতে করা হয়েছে নতুন রং। পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় লাগানো হয়েছে বাহারি ফুলের গাছ। এছাড়া ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, সুবলং ঝর্ণা এবং কাপ্তাইয়ের লেক-ভিউ, আরণ্যক, রিসোর্টগুলো ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দিতে কাপ্তাই হ্রদে নতুন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বোট বা তরী যুক্ত করা হয়েছে।
শহরের হোটেল-মোটেল মালিকরা জানান, আসন্ন ঈদের ছুটির জন্য অধিকাংশ রুম এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনেক হোটেল বিশেষ ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের মোটেলগুলোও তাদের আতিথেয়তায় এনেছে নতুনত্ব।
এদিকে রাঙ্গামাটির অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক ভ্যালিতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মেঘের আনাগোনা দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে মেঘ দেখার নতুন স্পটগুলো তৈরি করা হয়েছে আরো আধুনিক করে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, রূপের রাণী খ্যাত রাঙ্গামাটি প্রকৃতি তার রূপ নিয়ে সাজিয়ে আছে। এই প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে ইচ্ছুক বা বেড়াতে চাই। তারা রাঙ্গামাটি হলিডে কমপ্লেক্সে অনলাইন বা অফলাইলে বুকিং করতে পারবে এবং প্রধান কার্যালয়ে বুকিং করতে পারবেন। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আগাম ঈদের শুভেচ্ছাও জানান।
তিনি আরো জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের ঢল বেশি নামবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য দিতে আমরা আমাদের অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করেছি। প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি গড়তে আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এখন শুধু পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষা রাঙ্গামাটি।