সিডনির বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়া স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে নারী এশিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। বুধবার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে (Semi-final) ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ‘নাদেশিকো জাপান’ নামে পরিচিত জাপানি নারী ফুটবল দল। মাঠের প্রতিটি বিভাগে দাপট দেখিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও একবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই জাপানি ঝাপটা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে (FIFA Ranking) ষষ্ঠ স্থানে থাকা জাপান ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। গতির লড়াইয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ১৯ নম্বরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন রিকো উয়েকি। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিড নেয় জাপান। গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাইকা হামানো। প্রথমার্ধেই ২-০ তে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় জাপানিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও কোরিয়ার সান্ত্বনা বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা কিছুটা জমে উঠলেও জাপানের রক্ষণভাগ ছিল সুসংহত। ৭৫ মিনিটে অভিজ্ঞ সাকি কুমাগাইয়ের গোলে জাপানের জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও ৭৮ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার কাং-চায়ে রিম একটি গোল শোধ দিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তার ৩ মিনিট পরেই অর্থাৎ ৮১ মিনিটে রেমিনা চিব্বার গোলে কোরিয়ার ফেরার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।
রেকর্ড সপ্তমবারের মতো ফাইনালে জাপান নারী এশিয়ান কাপের ইতিহাসে এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে পা রাখল জাপান। এর আগে অনুষ্ঠিত ছয়টি ফাইনালের মধ্যে প্রথম চারটিতেই হারের স্বাদ পেতে হয়েছিল তাদের। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে টানা দুবার শিরোপা জিতে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। এবার তাদের লক্ষ্য হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়।
ফাইনালে মহারণ: জাপান বনাম অস্ট্রেলিয়া আগামী ২১ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। প্রথম সেমিফাইনালে রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ‘ম্যাটিলডাস’ খ্যাত অস্ট্রেলিয়া। মজার ব্যাপার হলো, সর্বশেষ চার আসরের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই ফুটবল পরাশক্তি। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাপান। ঘরের মাঠে অজি মেয়েরা এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।
সিডনির এই হাই-ভোল্টেজ ফাইনালটি এশিয়ার নারী ফুটবলের এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে ট্যাকটিকাল সুপিরিওরিটি (Tactical Superiority) আর শারীরিক সক্ষমতার এক চূড়ান্ত লড়াই দেখা যাবে।