বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই (Test, ODI, T20) তার সমান আধিপত্য এবং গেম-চেঞ্জিং পারফরম্যান্স সত্ত্বেও এক অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই তারকা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তির (Central Contract) কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনায় বুমরাহ’র বার্ষিক বেতন এক ধাক্কায় কমে যাচ্ছে প্রায় ২ কোটি রুপি।
ক্যাটাগরি অদলবদল: কেন এই অবনমন? বিসিসিআই-এর ২০২৫-২৬ মৌসুমের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন ভারতীয় দলে চারটি ক্যাটাগরি ছিল— ‘এ+’, ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’। বুমরাহ ছিলেন সর্বোচ্চ ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে। তবে বিসিসিআই এবার এই সর্বোচ্চ স্তরটি সাময়িকভাবে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের যুক্তি অনুযায়ী, ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে থাকার জন্য যে ধরনের মানদণ্ড (তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা এবং আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা) প্রয়োজন, তা পূরণের মতো পর্যাপ্ত খেলোয়াড় বর্তমানে নেই। ফলে বুমরাহ’কে নেমে আসতে হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে।
বেতন কমার গাণিতিক হিসাব ও রিটেইনার ফি (Retainer Fee) বিসিসিআই-এর বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে থাকা খেলোয়াড়রা বার্ষিক ৭ কোটি রুপি রিটেইনার ফি পেতেন। অন্যদিকে, ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ ৫ কোটি রুপি। ক্যাটাগরি অবনমনের ফলে বুমরাহ’র বার্ষিক আয় সরাসরি ৭ কোটি থেকে কমে ৫ কোটিতে দাঁড়াচ্ছে। যদিও শুভমান গিলের মতো তরুণ তারকারা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছেন, তবে বুমরাহ’র মতো একজন ম্যাচ উইনারের বেতন কমে যাওয়াকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ‘অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে দেখছেন।
রোহিত-কোহলি-জাদেজা ফ্যাক্টর বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে সিনিয়র ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর। গত মৌসুমে বুমরাহ’র সাথে ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রবীন্দ্র জাদেজা। তবে কোহলি ও রোহিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ায় এবং জাদেজাও ছোট ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানোয় এই ক্যাটাগরিতে কেবল বুমরাহ’ই একমাত্র সক্রিয় সদস্য হিসেবে অবশিষ্ট ছিলেন। একক কোনো খেলোয়াড়ের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকেই বোর্ড এই রদবদল করেছে।
বিসিসিআই-এর ক্ষতিপূরণ ভাবনা ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট (Workload Management) বেতন কমলেও বোর্ড এখনই বুমরাহ’কে হতাশ করতে চাইছে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসিসিআই অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছে কীভাবে বুমরাহ’র এই আর্থিক ক্ষতি অন্য কোনো উপায়ে বা বোনাসের মাধ্যমে পুষিয়ে দেওয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সাথে চুক্তির চূড়ান্ত আর্থিক অঙ্ক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৭ বিশ্বকাপ ও বিশ্রাম কৌশল টিম ম্যানেজমেন্টের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বুমরাহ এখনও অপরিহার্য। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে (ICC ODI World Cup 2027) সামনে রেখে তার ফিটনেস ধরে রাখতে বিশেষ ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মৌসুমে অধিকাংশ টি-টোয়েন্টি সিরিজে বুমরাহ’কে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি ওয়ানডে এবং টেস্ট ফরম্যাটে নিজের সেরাটা দিতে পারেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক অংকে বেতন কমলেও বুমরাহ’র ‘মার্কেট ভ্যালু’ এবং দলের ওপর তার প্রভাব বিন্দুমাত্র কমেনি। তবে বিসিসিআই-এর এই যান্ত্রিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ভারতের এক নম্বর বোলারের আয়ে যে প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।